পর্দা কেলেঙ্কারি

ফরিদপুর মেডিক্যালের তিন চিকিত্সক জেলে

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৩৩

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহুল আলোচিত পর্দাসহ সরঞ্জামাদি ক্রয়ে দুর্নীতি ও ১০ কোটি টাকা আত্মসাত্ চেষ্টার অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলায় তিন চিকিত্সকের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে জেলা ও দায়রা জজ আদালত। গতকাল রবিবার দুপুরে অতিরিক্ত-১ আদালতের বিচারক বেগম কামরুন্নাহার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক (দন্ত বিভাগ) ডা. গণপতি বিশ্বাস শুভ, সাবেক জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) ডা. মিনাক্ষী চাকমা ও হাসপাতালের সাবেক প্যাথলজিস্ট ডা. এ এইচ এম নুরুল ইসলামকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ২৭ নভেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী বাদী হয়ে ফরিদপুরের জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর উচ্চ আদালত থেকে পাওয়া ছয় সপ্তাহের জামিনের মেয়াদ শেষে গতকাল ছয় আসামির মধ্যে ঐ তিন জন আদালতে হাজির হন।

মামলায় ঐ তিন জন ছাড়াও আসামি করা হয়েছে মালামাল সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন, মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মুন্সি ফররুখ আহমেদ ও জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সি সাজ্জাদ হোসেন। 

মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ইমরান হোসেন লিমন জানান, আমার মক্কেলদের নাম এজাহারে উল্লেখ থাকলেও তারা মূল অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তাদের তিন জনের ওপর দায়িত্ব ছিল শুধুমাত্র বাজারদর সংগ্রহ করা, তারা শুধু সেটা সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দুলাল চন্দ্র সরকার জানান, এই তিন জন এজাহারনামীয় ৪, ৫ ও ৬ নম্বর আসামি। তাদের তিন জনের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

আসামিদের বিরুদ্ধে অসত্ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের জন্য অপ্রয়োজনীয় এবং অবৈধভাবে প্রাক্কলন ব্যতীত উচ্চমূল্যে হাসপাতালে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের মাধ্যমে সরকারের ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করার অভিযোগে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি করা হয়। গত ২০ আগস্ট হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) যন্ত্রপাতি ও বিশেষ পর্দা কেনাকাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় তদন্ত করতে দুদককে নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। এ জন্য ছয় মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এরপর আইসিইউর পর্দা ও আসবাবপত্র কেনাকাটায় মেসার্স অনিক ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে বাজারমূল্যের চেয়ে অস্বাভাবিক দাম দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করে দুদক। অনুসন্ধান টিমের প্রধান ছিলেন দুদকের উপপরিচালক সামছুল আলম।