যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ ঝড়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবারের ঝড়ে দেশটির অন্তত সাতটি রাজ্যে ১২০০ ফ্লাইট বাতিল এবং হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়েছেন। কিছু রাজ্যে বৃষ্টিসহ বরফ পড়েছে। অনেক স্থানে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। খবর ডেইলি মেইল ও রয়টার্সের
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা, টেক্সাস, আলাবামা ও মিশিগানসহ সাত রাজ্য ঝড়ের কবলে পড়ে। জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে টেক্সাস থেকে শুরু হওয়া ঝড় দক্ষিণ-পূর্ব ও গ্রেট লেকস হয়ে মেইন অঙ্গরাজ্যে আঘাত হানে। এসব এলাকায় শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দুই থেকে পাঁচ ইঞ্চি বরফ পড়ে। স্থানীয় সময় রবিবার ইলিয়ন, মিশিগান, নর্দার্ন নিউ ইয়র্ক ও নিউ ইংল্যান্ডে ৬ থেকে ১২ ইঞ্চি বরফ পড়তে পারে বলে আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করেছে। আবহাওয়াবিদ বব ওরাভেক জানিয়েছেন, মূলত বাতাস এবং বরফই বিপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্ব ভাগে অর্ধ থেকে এক ইঞ্চি বরফ জমতে পারে। তার মতে, বাতাসের কারণে অনেক গাছপালা ভেঙে পড়তে পারে ও বাড়িঘরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। লুইজিয়ানায় এক দম্পতিসহ কয়েকজন ও টেক্সাসে অগ্নিনির্বাপণকর্মীসহ তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সাত রাজ্য মিলে ১১ জনের মারা যাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
এদিকে, শিকাগোর দুটি প্রধান বিমানবন্দরে হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া মিসৌরি, ওকলাহোমা ও আরকানসাসে ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। যদিও আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। ঝড়ে এরই মধ্যে আলাবামা, মিসিসিপি, কেন্টাকি, টেনেসি এবং আরকানসাসের ২ লাখ ৫৭ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর ও ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
লুইজিয়ানা, আরকানসাস, টেক্সাস ও ওকলাহোমার ১ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ টর্নেডো এবং বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যার ঝুঁকিতে আছেন বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। এসব রাজ্যে যখন ঝড় ও বরফের আশঙ্কায় আছে মানুষ, তখন নিউ ইয়র্কে চলতি সপ্তাহে গরমের আশঙ্কা করা হচ্ছে। রবিবার নিউ ইয়র্কের তাপমাত্রা ৬৬ ডিগ্রি হতে পারে।
