লমিনেটর হেরে মাশরাফিদের বিদায়
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ঢাকা প্লাটুন: ২০ ওভারে ১৪৪/৮। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ১৭.৪ ওভারে ১৪৭/৩। ফলাফল: চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা: রায়াদ এমরিট (চট্টগ্রাম)।
স্পোর্টস রিপোর্টার
কুয়াশাচ্ছন্ন সকালের পর বেলা বাড়তে থাকলে আকাশেও উঁকি দিয়েছিল সূর্য। মিঠে রোদের তেজ অবশ্য উষ্ণ করতে পারেনি শেরেবাংলার উইকেটকে। কন্ডিশনের কারণেই টসটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গতকাল টস জিতে ফিল্ডিং করার মোক্ষম অস্ত্র বেছে নিতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
বল হাতে রুবেল হোসেন, রায়াদ এমরিটরা অধিনায়কের সিদ্ধান্ত যথার্থ প্রমাণ করেন। ঢাকাকে অল্প রানে বেঁধে ফেলেন তারা। তাতেই কার্যত ম্যাচ জয়ের প্রাথমিক কাজটা সেরে ফেলেছিল চট্টগ্রাম। পরে ব্যাটিং ক্রিস গেইল, ইমরুল কায়েসদের পরিণত ব্যাটিং বঙ্গবন্ধু বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে অনায়াস জয় এনে দিয়েছে চট্টগ্রামকে। গতকাল ঢাকাকে ৭ উইকেটের বড়ো ব্যবধানে পরাজিত করেছে চট্টগ্রাম।
এলিমিনেটর জিতে ফাইনালের মঞ্চে যাওয়ার আরো কাছে গেল দলটি। ১৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলবে চট্টগ্রাম। অন্য দিকে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার বাঁহাতে ১৪ সেলাই নিয়ে খেলতে নামার অনন্য দৃষ্টান্তও জাগাতে পারেনি ঢাকাকে। ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণেই এলিমিনেটর হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল ঢাকা।
গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৪৪ রান তুলেছিল ঢাকা। জবাবে ১৭.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ১৪৭ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় চট্টগ্রাম। ২৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন চট্টগ্রামের এমরিট।
রান তাড়া করতে নেমে ষষ্ঠ ওভারে জিয়াউর রহমানের উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। ২৫ রান করে স্ট্যাম্পড হন তিনি। কয়েকবার ক্যাচ তুললেও বেঁচে যান নড়বড়ে গেইল। দ্বিতীয় উইকেটে গেইল-ইমরুল কায়েস ৪৯ রানের জুটি গড়েন। দুজনই লেগ স্পিনার শাদাব খানের শিকার হন। দলীয় ৯১ রানে ইমরুল ফিরেন ২২ বলে ৩২ রান করে। ১৫তম ওভারে শর্ট ফাইন লেগে মাশরাফির হাতে ধরা পড়েন গেইল। এক হাতে ক্যাচ ধরেন মাশরাফি। গেইল ৪৯ বলে ৩৮ রান করেন। পরে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান মাহমুদউল্লাহ ও ওয়ালটন। মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ৩৪ ও ওয়ালটন অপরাজিত ১২ রান করেন। ঢাকার শাদাব খান ২টি উইকেট নেন।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করা ঢাকার ব্যাটিং লাইন কাঁপিয়েছেন চট্টগ্রামের বোলাররা। রুবেল, এমরিটদের তোপে সুবিধা করতে পারেনি ঢাকার ব্যাটসম্যানরা। তিন জন মাত্র দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করেছেন। এর মধ্যে শাদাব খানই মূলত পালটা আক্রমণ করতে পেরেছিলেন। তার হাফ সেঞ্চুরিতেই ঢাকার স্কোরটা ১০০ ছাড়িয়েছিল। জিয়াউর রহমানের করা ইনিংসের শেষ ওভারে ২৩ রান তুলেছিলেন এই পাকিস্তানি ক্রিকেটার। তার আগের ওভারেও এসেছিল ১৬ রান। ৪১ বলে অপরাজিত ৬৪ রান (৫ চার, ৩ ছয়) করেন শাদাব। মুমিনুল হক ৩১, থিসারা পেরেরা ২৫ রান করেন।
শুরুতে রুবেলের বলে বোল্ড হন তামিম (৩)। পরপর দুই ওভারে বিজয় (০), লুইস রিচ (০) ফিরলে ২৮ রানে ৩ উইকেটের পতন ঘটে। নবম ওভারে চতুর্থ ও পঞ্চম বলে মেহেদী হাসান (৭), জাকের আলীকে (০) আউট করেন এমরিট। একপ্রান্ত আগলে থাকা মুমিনুল ১১তম ওভারে এমরিটের দুর্দান্ত বলের শিকার হন। আসিফ আলী (৫) কট অ্যান্ড বোল্ড হলে ৬০ রানে ৭ উইকেট হারায় ঢাকা। পরে ঝড় তোলার চেষ্টা করা থিসারাকে থামান রুবেল। বাঁ হাতে ১৪ সেলাই নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন মাশরাফি। ২ বল খেলে রান না করলেও শাদাব দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন তিনি। চট্টগ্রামের এমরিট ৩টি, রুবেল-নাসুম ২টি করে, মাহমুদউল্লাহ ১টি উইকেট পান।
