বড়ো দুই দলেই বিদ্রোহী প্রার্থী, জয় চান সবাই

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩৩

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ওয়ার্ড-১৮, ১৯, ২০

নিলয় মামুন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৮ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী ছাড়া একাধিক প্রার্থী থাকলেও ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে নেই বিএনপির একক  প্রার্থী। তবে এর মধ্যে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বলে দাবি করছেন।

১৮ নম্বর  ওয়ার্ড : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড  নীলক্ষেত বাবুপুরা, সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, আইয়ুব আলী কলোনি রহিম স্কয়ার, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল, সেন্ট্রাল রোড, নায়েম নিয়ে বার রোড, কলেজ স্ট্রিট, টি, টি কলেজ, গভঃ ল্যাবরেটরি স্কুল এলাকা এবং ঢাকা কলেজ, সাইন্স ল্যাবরেটরি স্টাফ কোয়ার্টার, এলিফ্যান্ট রোড, মিরপুর রোড, নিউ এলিফেন্ট রোড, বিডিআর পিলখানা নিয়ে গঠিত। এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে নিউমার্কেট থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আ স ম ফেরদৌস আলমকে। তিনি ছাড়াও এই ওয়ার্ডে আরেক প্রার্থী রয়েছেন ঢাকা কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন। তবে তিনি নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাবি করছেন। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী আ স ম ফেরদৌস আলম বলেন, আশা করছি তাতে আমার ভোটের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।

আ স ম ফেরদৌস আলম বলেন, আমি নির্বাচিত হলে এই এলাকা পুরো ওয়াইফাই জোন ও সিসি ক্যামেরার আওতায়  আনব। এছাড়া ভ্রাম্যমাণদের  পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ও  সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গড়ে তুলব। এ ওয়ার্ডে বিএনপি থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে নিউ মার্কেট থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন পাটোয়ারীকে। জাহাঙ্গীর হোসেন পাটোয়ারী বলেন, আমি নির্বাচিত হলে ব্যবসায়ীবান্ধব এলাকা গড়ে তুলব সুষ্ঠু ভোট হলে আমি নির্বাচিত হব।

১৯ নম্বর ওয়ার্ড : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডটি গঠিত মিন্টো রোড, কাকরাইল, সার্কিট হাউস রোড, সিদ্ধেশ্বরী রোড ও লেন, মগবাজার এলিফ্যান্ট রোড, মগবাজার ইস্পাহানী কলোনি, নিউ ইস্কাটন রোড, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, আমিনাবাদ কলোনি ও ইস্টার্ণ হাউজিং অ্যাপার্টমেন্ট, বেইলী স্কোয়ার ও বেইলী রোড, কাকরাইল, ডিআইটি কলোনি ও পশ্চিম মালিবাগ এলাকা নিয়ে।

এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আবুল বাশারকে। তবে আওয়ামী লীগ থেকে তাকে সমর্থন দিলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বর্তমান কাউন্সিলর মুন্সী কামরুজ্জামান নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন।

বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো. আবুল বাশার বলেন, আমি নির্বাচিত হলে এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা নেব। এছাড়া নাগরিক সমস্যা সমাধানে কার্যকরী উদ্যোগ  নেব।

এই ওয়ার্ডে বিএনপির অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণে একক সমর্থিত প্রার্থী দিতে পারেনি বলে জানা গেছে। তবে এই ওয়ার্ডে বিএনপির একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন  আশরাফুল ইসলাম ও নাদিম চৌধুরী। তারা দুজনেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

২০ নম্বর ওয়ার্ড : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডটি অনেক বড়ো এলাকা ও গুরুত্ব প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে রয়েছে সেগুনবাগিচা, তোপখানা রোড, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ও রেস্ট হাউজ, টিবি ক্লিনিক এলাকা, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ও আ/এ, হাইকোর্ট স্টাফ কোয়ার্টার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ফুলবাড়িয়া স্টেশন পূর্ব এলাকা, পশ্চিম ফুলবাড়িয়া এবং সচিবালয় এলাকা, আব্দুল গণি রোড এবং সচিবালয় স্টাফ কোয়ার্টার, পশ্চিম পুরাতন রেলওয়ে কলোনি, রেলওয়ে হাসপাতাল এলাকা, ইস্টর্ন হাউজিং এবং টয়েনবি সার্কুলার রোড, ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি এবং আবাসিক এলাকা, নজরুল ইসলাম হল, আহসান উল্যাহ হল, তিতুমীর হল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল, বুয়েটের শেরবাংলা হল, সোহরাওয়ার্দী হল। এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে বর্তমান কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ রতনকে। তিনি বলেন, ৯ কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজ করেছি আমি। এলাকায় এলইডি লাইট স্থাপন করেছি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা এনেছি।

আবার নির্বাচিত হলে নষ্ট হওয়া সড়ক সংস্কারে উদ্যোগ নেব। আওয়ামী লীগ থেকে একক সমর্থন পাওয়া প্রার্থী থাকলেও এখানে একক সমর্থিত প্রার্থী দিতে পারেনি বিএনপি। এখানে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এম এ হান্নান, জাহিদ হোসেন ও রফিকুল ইসলাম। তারা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে তারা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।