সংগীতের আশ্রয়ে ধর্মের মিলন

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ২২:০৪

শিল্পকলায় বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীদের পরিবেশনা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

শিল্পীরা গান ধরতেই ক্যানভাস ভরে উঠল রঙে। তারপর একে একে পরিবেশিত হলো নানা রাগে নানা তালে শাস্ত্রীয় সংগীত, নৃত্য। মঞ্চ জুড়ে রয়েছেন কণ্ঠশিল্পীরা। আর সেই সুরের আশ্রয়ে ক্যানভাসে চিত্রশিল্পী এঁকে চলেছেন ছবি। পিনপতন নীরবতায় তা উপভোগ করলেন দর্শকরা। ‘সংগীতের মাধ্যমে ধর্মের মিলন’ এ প্রতিপাদ্যে পশ্চিমবঙ্গের গবেষণামূলক সাংগীতিক প্রতিষ্ঠান নাদ এর আয়োজনে এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আর শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালায় বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীদের অংশগ্রহণে ঢাকায় বসেছিল ব্যতিক্রমী এক আয়োজন।

সংগীতের এই আয়োজনের মূলে ছিল সংগীতের মাধ্যমে ধর্মের মিলন। এই আয়োজনের শুরুতেই প্রধান ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে বিভিন্ন বাণী পড়ে শোনানো হয়। এরপর সংগীতের মাধ্যমে ধর্মের মিলনের কথা গানে গানে ফুটে ওঠে। মূলত শাস্ত্রীয় সংগীতকে উপজীব্য করেই সবগুলো পরিবেশনা উপস্থাপিত হয়। এতে নাদের শিল্পীদের পাশাপাশি যন্ত্রসংগীতে বাংলাদেশের শিল্পীরাও অংশগ্রহণ করেন।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। নাদ এর পক্ষে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠাতা আধিকারিক ঋত্বিক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতের শিল্পীদের মধ্যে সংগীত পরিবেশন করেন আর্য শাওন ভট্টাচার্য, সুলতা ব্যানার্জী ঘোষ ও অরুণ কান্তি ঘোষ। গ্রন্থপাঠ করেন তৃণা ঘোষ।

বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের প্রভাষক মনিরা পারভীন নৃত্য পরিবেশন করেন। যন্ত্রবাদনে ছিলেন দেবু চৌধুরী ও অশোক কুমার সরকার।

জমজমাট ‘বাংলাদেশ

সাংস্কৃতিক উত্সব’

শিল্পকলা একাডেমিতে চলছে ২১ দিনের ‘বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উত্সব ২০২০’।

গতকাল সোমবার ছিল এই উত্সবের একাদশ দিন। যথারীতি জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বিকালে একাডেমির নন্দনমঞ্চে শুরু হয় এদিনের আয়োজন। এরপর অ্যাক্রোবেটিক শো পরিবেশন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পর্বে দ্বৈতসংগীত পরিবেশন করে সাফিন ও শৈলি। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে একাডেমির নিজস্ব শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে আরো সংগীত পরিবেশন করে পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশনের শিল্পীরা। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে কথা আবৃত্তি সংগঠন। জেলা পরিবেশনা পর্বে নিজ নিজ জেলার ঐতিহ্য সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় ব্রা?হ্মণবাড়িয়া, পিরোজপুর ও কক্সবাজার জেলার শিল্পীরা। সবশেষে রাত ৮টায় একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে পুতুলনাট্য পরিবেশন করে দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাট্য দল।