যশোরে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে তিন জন নিহত

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৩৬

যশোরের অভয়নগরে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে তিন জন নিহত হয়েছে। সোমবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার প্রেমবাগ গ্রামের মজুমদার পাড়ায় রেলক্রসিংয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, চোরাই তিনটি গরু উদ্ধার করা হয়েছে এবং চোরদের ব্যবহূত নম্বরবিহীন টাটা পিকআপটি উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর করেছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক চোরকে আটক করেছে। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ সার্কেল) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েনসহ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সোমবার ভোর ৪টার দিকে একটি পিকআপে কয়েকজন    চোর যশোর সদর উপজেলার গাইদগাছি গ্রামের খোরশেদ আলীর বাড়িতে আসেন এবং গোয়ালে ঢুকে তিনটি গরু চুরি করে পালাতে শুরু করে। এ সময় বাড়ির মালিকের চিত্কারে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে চোরদের ধাওয়া দেয়। এলাকার মসজিদের মাইক থেকে গরু চুরির বিষয়ে জানানো হয়। প্রায় দেড় কিলোমিটার ধাওয়া করে এনে প্রেমবাগ গ্রামের মজুমদার পাড়ায় রেলক্রসিংয়ের সামনে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তিন জনকে ধরে গণপিটুনি দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে দুই জন মারা যায়। অপরজন অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মারা যায়।

জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, অভয়নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে জনি শেখ নামে এক জনকে গ্রেফতার করেছে। তিনি বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানার কাটাখালী লকপুর গ্রামের ওহাব শেখের ছেলে। আটক জনি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নিহতদের মধ্যে দুই জনের পরিচয় পুলিশকে জানিয়েছে। তারা হচ্ছে খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানার রেলগেট এলাকার সোহেল (২৭) ও একই এলাকার সৈকত (৩০)। তবে নিহত অপর ব্যক্তির পরিচয় জানাতে পারেনি। হত্যার ঘটনায় অভয়নগর এবং চুরির ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গরুচোর সন্দেহে মধ্যযুগী

কায়দায় নির্যাতন

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় এক কিশোরকে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে। গত ১০ জানুয়ারি এ ঘটনা ঘটে। ১২ জানুয়ারি রাতে সুন্দরগঞ্জ থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। নির্যাতনের শিকার কিশোরের নাম রাফিকুল ইসলাম (১৬)। সে উপজেলার দহবান ইউনিয়নের ধুমাইটারী গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

থানা সূত্রে জানা যায়, ধুমাইটারী গ্রামে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে একই গ্রামের জিহাদ উদ্দিনের ছেলে নজু মিয়ার গরু তার ছোটো ভাইয়ের জামাই রহিম চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় রাফিকুলকে চোর সন্দেহে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় একই গ্রামের ফজলু, ইয়াজুল ও নাজমুল। তারা রাফিকুলকে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে ফজলুর বাসায় সারারাত বেঁধে রাখে।

পরদিন শনিবার সকালে রাফিকুলকে তারা স্থানীয় আফসার প্রামানিকের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং হাত-পা বেঁধে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তনু, তাজু, তুহিন, লেলিন, সাবু ও মুসা প্রামাণিকের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সবার নজরে আসে। নির্যাতনের ফলে রাফিকুল অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সুন্দরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

সুন্দরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহিল জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, কিশোর নির্যাতনের ঘটনায় তার বড়ো ভাই রফিকুল বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে রবিবার রাতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই জনকে গ্রেফতার করে। এরা হলেন ধুমাইটারী গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে রানা মিয়া, একই গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে আজিজুল।