ব্রিটেনের প্রিন্স হ্যারি ও প্রিন্সেস মেগানের রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে ব্রিটিশ মিডিয়ায় খবর প্রকাশ হয়েছে যে, বড়ো ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের কারণেই রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করতে হচ্ছে হ্যারি ও মেগানকে। দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। তবে মিডিয়ার এমন প্রতিবেদনে ক্ষেপেছেন দুই ভাই। তারা যৌথ বিবৃতিতে মিডিয়াকে একহাত নিয়েছেন। রাজপ্রাসাদের একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে ‘বিব্রত’ প্রিন্স ফিলিপ নাও থাকতে পারেন। প্রিন্স হ্যারি সার্ডিংহাম প্যালেসের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। খবর ডেইলি মেইল ও সিএনএনের
ব্রিটেনের রাজপরিবারে ভাঙন নিয়ে গোটা দুনিয়ায় যখন হইচই, তখন ঘনিষ্ঠ মহলে আক্ষেপ করেছেন প্রিন্স উইলিয়াম। ভাই হ্যারির সিদ্ধান্তে যে তিনি মর্মাহত, বন্ধুদের সামনে খোলাখুলি তা স্বীকারও করেছেন। ব্রিটিশ মিডিয়া সানডে টাইমস সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। পত্রিকাটি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি বন্ধুদের কাছে দুঃখ করেন প্রিন্স উইলিয়াম। তিনি বলেন, ‘এতদিন নিজে হাতে ভাইকে আগলে রেখেছিলাম। কিন্তু এখন আর তা সম্ভব নয়। আমরা দু’জন দু’টি ভিন্ন ভিন্ন সত্তা। গোট ঘটনায় আমি মর্মাহত। এই মুহূর্তে ওদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। আশা করি, এমন একটা সময় আসবে, যখন আমরা সবাই ফের এক ছাতার নীচে জড়ো হবো। আমি চাই, প্রত্যেকে একজোট হয়ে কাজ করুক’। বন্ধুদের বরাত দিয়ে মিডিয়া জানিয়েছে, দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্কে মারাত্মক অবনতি হয়েছে। মিডিয়ায় বলা হয়েছে, মেগানের প্রতি উইলিয়ামের দুর্ব্যবহারের কারণেই প্রাসাদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন হ্যারি।
গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে উইলিয়াম ও হ্যারি তাদের মধ্যে কোনো ধরনের দ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার করেছেন। ডিউক অব সাসেক্স এবং ডিউক অব ক্যাম্ব্রিজের মুখপাত্র সিএনএনে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছেন, তাদের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে ব্রিটিশ মিডিয়ায় মিথ্যা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। মানসিক এই চাপের মধ্যে দুই ভাইকে নিয়ে এমন রিপোর্ট খুবই ক্ষতিকর বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে এমন প্রতিবেদনের সমালোচনা করা হয়। গত বুধবার আকস্মিকভাবেই হ্যারি ও মেগান পরিবারের ‘সিনিয়র সদস্যপদ’ ছেড়ে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
‘ডিউক এবং ডাচেস অব সাসেক্স’ উপাধি ধরে রাখতে চাইলেও রাজপরিবারের গ্লির বাইরে বেরিয়ে নিজেদের মতো রোজগার করতে চান বলে ঘোষণা করেন তারা। তাতেই উদগ্রীব হয়ে পড়েন রাজপরিবারের সদস্যরা। রানিকে না জানিয়ে তারা এত বড়ো ঘোষণা করলেন কিভাবে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষমেশ মাঠে নামতে হলো রানিকে। সার্ডিংহাম প্যালেস রানির ব্যক্তিগত বাড়ি। নাতি হ্যারির সঙ্গে সেখানেই মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রানি। সোমবারের বৈঠকে রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের নতুন সম্পর্ক কেমন হবে, তাদের ভাতা কী হবে, তারা তাদের টাইটেল রাখতে পারবেন কিনা বা ভবিষ্যতে তাদের কী কী রাজকীয় দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে সে সব বিষয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
