পায়রা বিদ্যুেকন্দ্রে উত্পাদন শুরু

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ০০:৩৬

দেশে বিদ্যুত্ উত্পাদনের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবার আগে উত্পাদন শুরু করল পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র। গতকাল সোমবার পটুয়াখালীর পায়রায় নির্মিত কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক উত্পাদন শুরু হয়েছে। নির্মাণাধীন ও নির্মিতব্য বড়ো বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর মধ্যে জাতীয় গ্রিডে প্রথম বিদ্যুত্ সরবরাহ করল এটি।

বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ কর্মকর্তা মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন জানান, পায়রা বিদ্যুেকন্দ্রটি সোমবার জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটি প্রাথমিকভাবে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহ করছে। ধাপে ধাপে উত্পাদন বৃদ্ধি করা হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও সঞ্চালন লাইন প্রস্তুত না হওয়ায় প্রায় দুই মাস ধরে বিদ্যুত্ সরবরাহের কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি কেন্দ্রটি। গত ডিসেম্বরে সঞ্চালন লাইন কার্যকরভাবে সম্পন্ন করে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। এরপর গতকাল থেকে পটুয়াখালী-গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি লাইন দিয়ে বিদ্যুতের পরীক্ষামূলক সঞ্চালন শুরু হলো। এ মাসের শেষ নাগাদ পুরোদমে সরবরাহ শুরু করা যাবে।

বিদ্যুেকন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক শাহ আবদুল মাওলা জানান, দুই ইউনিটের কেন্দ্রটির প্রতিটির উত্পাদনক্ষমতা ৬৬০ মেগাওয়াট। চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ দ্বিতীয়টি বাণিজ্যিক উত্পাদন শুরু করবে। প্রথম ইউনিটের উত্পাদন গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে। আগামী কয়েক দিন ধীরে ধীরে উত্পাদন বাড়ানো হবে।

কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রটি বাংলাদেশের নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল) এবং চীনের সিএমসির (চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন) উদ্যোগে এবং সমান অংশীদারিত্বে নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে এবং কেন্দ্রটি পরিচালনায় দুই প্রতিষ্ঠানের সমমালিকানায় রয়েছে বাংলাদেশ-চীন পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল)। ২০১৬ সালে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়ায় কেন্দ্রটির নির্মানকাজ শুরু হয়। অধিগ্রহণ করা হয় ১ হাজার একরের বেশি জমি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা (২২০ কোটি মার্কিন ডলার)। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে চীনের এক্সিম ব্যাংক। বাকি ২০ শতাংশের সমান জোগান দেবে এনডব্লিউপিজিসিএল এবং সিএমসি। কেন্দ্রটির নির্মাণ ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে চীনের দুই কোম্পানি এনইপিসি ও সিইসিসি নিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম।