নাগরিকত্ব আইনকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গেল কেরালা

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৪৪

বহুল আলোচিত ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে (সিএএ) চ্যালেঞ্জ করে সর্বোচ্চ আদালতে গেছে কেরালার রাজ্য সরকার। আইনটির বিরুদ্ধে ভারত জুড়ে চলমান প্রতিবাদের মধ্যে প্রথম কোনো রাজ্য সরকার আদালতের দ্বারস্থ হলো। কেরালা বর্তমানে ভারতের একমাত্র বামশাসিত রাজ্য।

সর্বোচ্চ আদালতে দাখিল করা পিটিশনে কেরালা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিএএ ভারতীয় সংবিধানের সমঅধিকারের ঘোষণাসহ বেশ কয়েকটি ধারা লঙ্ঘন করেছে। এটি ভারতীয় সংবিধানের মূলনীতি ধর্ম নিরপেক্ষতার বিরোধী। কেরালা সরকার ২০১৫ সালে পাসপোর্ট আইন ও ফরেনার্স (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডারে আনা পরিবর্তনগুলোর বৈধতাকেও চ্যালেঞ্জ করেছে।

সর্বোচ্চ আদালতে দায়ের করা পিটিশনে কেরালা দাবি করেছে, সিএএ সংবিধানের ১৪, ২১ ও ২৫ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে। সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদে সাম্যের অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে। ২১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি জীবন বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হবে না’। আর ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘সমস্ত ব্যক্তির বিবেকের স্বাধীনতা থাকবে’। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা ও এনডিটিভির।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ৬০টিরও বেশি পিটিশনের শুনানি চললেও রাজ্য হিসেবে কেরালাই প্রথম আদালতে গেল। নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে ২০১৫ সালের আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে প্রবেশ করা অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নাগরিকত্ব আইনের বাস্তবায়ন বন্ধ করতে ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যের বিজেপিবিরোধী সরকার নাগরিক পঞ্জি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সিএএ ও প্রস্তাবিত নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করতে ব্যবহূত হবে বলে শঙ্কা সমালোচকদের। বিতর্কিত এই আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ভারত জুড়ে সরব হয়েছে একাধিক রাজনৈতিক দল। দফায় দফায় ব্যাপক বিক্ষোভও হয়েছে।