মো. আবু হানিফ, শেকৃবি সংবাদদাতা
নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের মূর্ত প্রতীক এবং নারী উদ্যোক্তাদের প্রতীকী নাম জয়িতা। গত কয়েক বছরের মতো এবারও ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করেছে সফল নারীদের প্রতিষ্ঠান জয়িতা ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটি দেশের হার না মানা নারীদের আত্মপ্রত্যয়ী করে তুলছে। বাণিজ্য মেলায় জয়িতা ফাউন্ডেশনের প্যাভিলিয়ন নম্বর আরপি ০৮। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা নারী উদ্যোক্তাদের ২৬টি স্টলে শোভা পাচ্ছে মেয়েদের সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় বানানো বাহারি সব পণ্য। মসলিন শাড়ি, সুতি কাপড়ের ওপর নকশা আঁঁকা শাড়ি, থ্রি-পিস, কটি, হাতের কাজের শাল, শিশুদের জন্য আছে নানা ডিজাইনের পোশাক, গৃহসজ্জার উপকরণের মধ্যে রয়েছে ল্যাম্পশেড, পাটের তৈরি শিকা, ব্যাগ, পুতুল, প্রাণী, টেবিল ম্যাট ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী নানা খাবার। এর মধ্যে রয়েছে নকশি পিঠা, মুড়ি, মুড়কি, খই, আচার, চাটনি, বিভিন্ন ফুলের মধু, গাওয়া ঘি, ফলের চকলেট, নাড়িকেলের নাড়ু, মোয়া ইত্যাদি।
প্যাভিলিয়নে আসা ক্রেতা সুমাইয়া জাহান বলেন, ‘দাম ও মানে জয়িতার পণ্য অনন্য। প্যাভিলিয়নটিও বেশ সুসজ্জিত। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো ভালো লেগেছে খুব। নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে জয়িতা একটি উদাহরণ। আমি নিজেও অনুপ্রেরণা পেয়েছি, স্বপ্ন দেখি উদ্যোক্তা হওয়ার।’
জয়িতা ফাউন্ডেশনের প্যাভিলিয়নের বিক্রেতারা জানান, ‘পণ্যের মান ও দাম নিয়ে ক্রেতাদের তেমন কোনো অভিযোগ নেই। বিভিন্ন স্টলে রুটির বাটি ২৫০ টাকা, পর্দার বেল্ট ২০০ টাকা, নকশিকাঁথা ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা, কটি ৬৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, বাচ্চাদের কটি ৫০০ টাকা, থ্রি-পিস ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, ওয়ান পিস ১ হাজার টাকা, শাড়ি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার৮০০ টাকা, জামদানি শাড়ি ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ২০০-৭০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে হস্তজাত নানা গৃহস্থালি পণ্য।
জয়িতার নারী উদ্যোক্তা সীমা আক্তার বলেন, ‘বেশির ভাগ পণ্যই আমাদের নিজ হাতে তৈরি। ভালো পণ্য গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারায় একটা ভালো অনুভূতি কাজ করে। পাঁচ-ছয় বছর ধরে জয়িতার সঙ্গে আছি। জয়িতার সহযোগিতায় আমরা জীবনের হাল ধরেছি, সফলও হয়েছি। নারী উদ্যোক্তাদের কাজ করার জন্য জয়িতা একটি প্ল্যাটফরম।’
