ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ৩০ জানুয়ারি ভোটের দিন ধার্য করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নেওয়া সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেনি হাইকোর্ট। ঐ দিন সরস্বতী পূজা—এই যুক্তি দেখিয়ে ভোট গ্রহণের তারিখ পরিবর্তন চেয়ে করা রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেয়। আদালত বলেন, সরস্বতী পূজার জন্য ২৯ জানুয়ারি ছুটি ঘোষণা করে ২ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এই সময়ের মধ্যে রিটকারী বা বিভিন্ন সংগঠন এ নিয়ে কোনো আপত্তি জানায়নি। ইতিমধ্যে ইসি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেছে। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রার্থীদের। চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। এছাড়া ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রেক্ষাপটে ভোট গ্রহণের দিন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। তাই সার্বিক বিষয়াদি বিবেচনায় নিয়ে রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করা হলো।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালতের এই আদেশের ফলে নির্ধারিত ৩০ জানুয়ারিই ভোট হচ্ছে। তবে রিটকারী আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি আপিল বিভাগে যাবেন।
গত ২২ ডিসেম্বর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হয়। ঐ তপশিল অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারি ভোটের দিন ঠিক করা হয়। কিন্তু ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা উদ্যাপন করবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়—সেই দাবি থেকে ভোটের তারিখ পেছানোর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটের শুনানিতে ইসির কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নানা দিক বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন ভোটের তারিখ ঠিক করেছে। ভোটের পর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের জন্য নির্ধারিত এই তারিখ পরিবর্তন করলে কমপক্ষে তিন মাস ভোট পিছিয়ে দিতে হবে। কারণ ভোটের তারিখ নির্ধারণের সঙ্গে পারিপার্শ্বিক অনেক বিষয় জড়িত রয়েছে। ইসি তো বেআইনি কিছু করেনি। তিনি বলেন, পূজা ও ভোটের তারিখটি যদিও কো-ইনসিডেন্স, তাই ধর্মীয় অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়াটা সুনাগরিকের দায়িত্ব।
রিটকারী আইনজীবী বলেন, রামকৃঞ্চ মঠ ও মিশন, ঢাকেশ্বরী মন্দির ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৩০ জানুয়ারি পূজা উদ্যাপন করবে। সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেই মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কাজ করছে ইসি, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করছে। আমাদের মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। একদিকে বলা হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ, অন্যদিকে পূজার মধ্যে নির্বাচন করা হচ্ছে। এটা অনুচিত। তাই ২৯-৩০ জানুয়ারির আগে বা পরে ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করা হোক।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত বলেন, দেশের ভোটারদের ১২ শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সবার মনের কথাই রিট আবেদনকারী তার আবেদনে বলেছেন। একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব হলে আদালত হস্তক্ষেপ করে। ৩০ তারিখ ভোটের দিন ধার্য করায় অনেকেই পূজা উদ্যাপন করতে পারবেন না।
