ঢাকা গড়তে মহাপরিকল্পনা করবেন আতিক-তাপস

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ২২:২৮

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণাযুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মন্ত্রী-এমপি নন এমন কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন, নৌকার পক্ষে ঘরে ঘরে ভোট চাইছেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির দুই মেয়র পদপ্রার্থীও পঞ্চম দিনের প্রচারে দিনভর ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন। ঢাকাকে একটি আধুনিক সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে তারা প্রতিশ্রুতি দেন।

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস গতকাল মঙ্গলবার কামরাঙ্গীরচর ও ঝাউচর এলাকায় গণসংযোগ করেন। তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে বুড়িগঙ্গার পাড় দিয়ে ঘোড়ার গাড়ি চালু এবং নাগরিকদের সেবা প্রদান করতে নগর ভবন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। একই দিনে আগারগাঁও-তালতলায় প্রচারণাকালে আতিকুল ইসলাম উত্তরে মেয়র নির্বাচিত হলে শিশুদের পার্কে নির্বিঘ্নে খেলার ব্যবস্থা এবং নিজের ছাড়াও কাউন্সিলরদের সম্পদের হিসাবের বিবরণ জনগণের সামনে প্রকাশ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

গণসংযোগে আতিক :গতকাল আগারগাঁওয়ের তালতলায় শতদল কমপ্লেক্স মাঠে আতিকুলের নির্বাচনি সভা ছিল। দুপুরে ঐ সভায় আসেন তিনি। সড়কে মেয়র পদপ্রার্থীকে ঘিরে ধরে উচ্ছ্বসিত শিশুর দল। তাদের আবদারে সেখানেই বসে পড়েন আতিকুল ইসলাম। তাদের সঙ্গে মেতে ওঠেন উচ্ছ্বাসে। সেখানেই এই প্রার্থী আগামীর প্রজন্মকে নিয়ে নিজের স্বপ্ন ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এই শিশুরা দেশের ভবিষ্যত্, আগামীর সম্পদ। আমি মনে করি, তাদের জন্য বিশেষ কিছু করতে হবে।’ পরে নির্বাচনি সভায় তিনি বলেন, “সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকলেও ‘ইম্পসিবল’ বলে কিছু নেই। সবাই যদি একসঙ্গে কাজ করতে পারি, ইনশাআল্লাহ আমরা পসিবল হবই হব। নয় মাস আমি একটি কঠিন অনুশীলন করেছি। আমি চেষ্টা করেছি, কীভাবে এই শহরকে একটি আধুনিক, সুস্থ ও সচল শহর করা যায়।’ সভা শেষে ঢাকা ১৩ আসনের ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন আতিক। এ সময় দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তার সঙ্গে ছিলেন।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শতদল কমপ্লেক্স সভাস্থলে উপস্থিত হয়ে মঞ্চে বসেন ঐ এলাকার এমপি সাদেক খান। নির্বাচনি আচরণবিধিতে এমপিদের কোনো প্রার্থীর নির্বাচনি সভায় অংশগ্রহণে বিধিনিষেধের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাদেক খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এমনিতেই এসেছি। একটু পরে চলে যাব। নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেব না।’ এরপর সভাস্থল ত্যাগ করেন তিনি।

প্রচারণায় তাপস :দুপুরে বুড়িগঙ্গার পাশেই ঝাউচর এলাকায় গণসংযোগ করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। মেয়র নির্বাচিত হলে সপ্তাহে সাত দিন এবং দিনে ২৪ ঘণ্টা কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাপস বলেন, ‘মেয়র নির্বাচিত হলে নাগরিকদের সেবা প্রদান করতে নগর ভবন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। এই নগরীকে সুন্দর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। উন্নত ঢাকা গড়তে ৩০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনার আওতায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বুড়িগঙ্গা নদী সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে প্রথম ৯০ দিনের মধ্যে মৌলিক নাগরিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করব। এরপর ২০৪১ সালকে লক্ষ্য রেখে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।’

বিরোধী প্রার্থীদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগের বিষয়ে তাপস বলেন, ‘তাদের বাধা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট একটি অভিযোগ। পরে তিনি ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে জনসংযোগ চালান। তাপসের নির্বাচনি প্রচারণায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুকুল বোস, আবুল হাসনাত, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হকসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী-সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে আওয়ামী লীগ।