নজিরবিহীন দাবানলে কয়েক মাস ধরে পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল। কমপক্ষে ৫০ কোটি বন্যপ্রাণী মারা গেছে। কত গাছ পুড়েছে তার হিসাব নেই। এই দাবানল সম্প্রতি নিয়ন্ত্রণে আনার কথা জানিয়েছে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে অস্ট্রেলিয়ার অনেক জায়গা। দাবানলের এই ধোঁয়া শুধু অস্ট্রেলিয়া নয় সারা বিশ্ব প্রদক্ষিণ করবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। খবর—সিএনএন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা—নাসা জানিয়েছে, এই ধোঁয়া সারা বিশ্ব প্রদক্ষিণ করবে। ধোঁয়া পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে ঘিরে একটি ‘ফুল সার্কিট’ তৈরি করবে। বিশ্ব প্রদক্ষিণ করে কমপক্ষে একবার অস্ট্রেলিয়ার আকাশে ফিরে আসবে।
এক টুইট বার্তায় নাসা সতর্ক করে বলেছে, সংস্থাটির কয়েকটি স্যাটেলাইট বেশ কিছু দিন ধরে দাবানলের ধোঁয়ার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। গত ডিসেম্বরের শেষদিকের ধোঁয়ার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ধোঁয়া এরই মধ্যে অর্ধেক পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেছে। এর প্রভাবে অনেক দেশের বায়ু দূষিত হয়েছে।
সংস্থাটি আরো জানায়, গত ৮ জানুয়ারি দাবানলের ধোঁয়া দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর প্রভাবে সেখানকার আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সময় আকাশ রঙিন দেখাচ্ছে। নাসা জানিয়েছে, দাবানলের ধোঁয়ার কারণে দক্ষিণ আমেরিকার আকাশের রং পরিবর্তন হয়ে গেছে। আর দূষিত হয়েছে নিউজিল্যান্ডের বাতাসও। সেখানকার পাহাড়ের বরফও কালো দেখাচ্ছে।
নাসা সতর্ক করে বলেছে, এই ধোঁয়ার গতিপথ স্ট্রাটোস্ফেয়ারে পৌঁছেছে। এর ফলে এই ধোঁয়া হাজার হাজার মাইল পর্যন্ত যাবে। এটি বিশ্বের বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করবে। রিডিং ইউনিভার্সিটির জলবায়ু বিজ্ঞানী নিকোলাস বেলোউন বলেন, বাতাসে বিভিন্ন ধরনের পার্টিকেলস উড়ে বেড়ানো অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার দাবানলের ধোঁয়া স্বাভাবিক নয়। এটি বিশ্বের অনেক দেশের বাতাসের মান খারাপ করবে।
