খালিয়াজুরীর ধনু নদীতে অবৈধ ঘের তৈরির মাধ্যমে কোটি টাকার মাছ লুটে নিচ্ছে প্রভাবশালী অমত্স্যজীবীরা।
বাঁশ আর গাছের ডাল দিয়ে তৈরি অবৈধ এসব ঘের স্থাপনের ফলে একদিকে কার্গো, বোলগেট ও অন্যান্য নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটাসহ প্রায়ই ঘটছে নৌদুর্ঘটনা, অন্যদিকে প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হচ্ছে উন্মুক্ত এ নদীর মাছ ধরার অধিকার থেকে। তাছাড়া, এসব অবৈধ ঘেরে বালি আটকে নদীটি ভরাটও হচ্ছে দ্রুত।
খালিয়াজুরীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ জানান, খালিয়াজুরীর লেপসিয়া থেকে পাঁচহাট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকার ধনু নদীতে শতাধিক ঘের রয়েছে। ঐ ঘের স্থাপনকারী ৩৬ জনের নামও এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। নাম না জানাও আছেন অনেকেই। ঘের স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত ধনু নদীতে টানা ১৩ দিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে অবৈধ ঘের স্থাপনকারী সাত জনকে প্রায় ৪ লাখ টাকা জরিমানাসহ ৩০/৩৫টি অবৈধ ভিম জাল আর ১০/১৫টি মশারি জাল কেটে ও পুড়িয়ে অপসারণ করেন তিনি।
এদিকে, খালিয়াজুরী সদর ইউপি সদস্য অজিত সরকার জানান, প্রতি বছরেই প্রাকৃতিকভাবে কোটি টাকার মাছ উত্পাদনের খনি হিসেবে পরিচিত এ৩ নদী জেলেদের আশীর্বাদে পরিণত হবার কথা ছিল। কিন্তু নদীটিকে ঘিরে স্থানীয় জেলেদের তৈরি হয়েছে মূর্তিয়মান আতঙ্ক। কিছু প্রভাবশালী অমত্স্যজীবী ঘের তৈরি করায় ও চুঙ্গা (বাইম মাছ ধরার বাঁশের ফাঁদ) ফেলে রাখায় জেলেরা এর আশেপাশেও ঘেঁষতে পারেন না। যদি ভুলেও ঐ ঘের কিংবা চুঙ্গার পাশে কোনো জেলে কখনো যায় তবে তার খেসারত দিতে হয় প্রভাবশালীদের লাঠিপেটা খেয়ে অথবা জাল নৌকা দিয়ে।
নয়াপাড়া গ্রামের জেলে শৈলেন বর্মন ও সুশীল দাস বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত ধনু নদীটিকে অবৈধ ঘের ও চুঙ্গার আওতায় রাখছে প্রভাবশালীরা। শুষ্ক এ মৌসুমে এখানে মাছ ধরতে গেলে জেলেরা নির্যাতনের শিকার হন। তারা নিজেরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানান শৈলেন ও সুশীল। এ ব্যাপারে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম জানান, ধনু নদী থেকে দ্রুত ঘের উচ্ছেদের মাধ্যমে জেলেদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াসহ এখানে নির্বিঘ্নে নৌচলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। ঘের উচ্ছেদের জন্য এরই মধ্যে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আনসার ব্যাটালিয়ন চাওয়া হয়েছে। এ ব্যাটালিয়ন এলেই শুরু হবে ঘের উচ্ছেদে অভিযান।
