নলছিটি উপজেলায় দুইটি সড়কের মধ্যে ২৭৯টি বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। বরিশাল-নলছিটি ও নলছিটি-হদুয়া পীর মোয়াজ্জেম হোসেন নামের ঐ দুই সড়কে গত ছয় মাস ধরে কাজ চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক শেখ এনামুল হক বলেন, খুঁটি সরানোর জন্য সড়ক বিভাগের মাধ্যমে বিদ্যুত্ বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। তারা খুঁটি সরানোর ব্যবস্থা করলে আমাদের কাজ করা সহজ হবে। কাজের সময়সীমা ঠিক রাখতেই খুঁটি না সরিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করা হয়েছে। ওজোপাডিকোর নলছিটি আবাসিক প্রকৌশলী ফিরোজ হোসেন সন্যাত বলেন, সড়ক দুটিতে উন্নয়ন কাজ শুরুর পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিদ্যুত্ বিভাগের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রক্ষা করেনি। তারা খুঁটিগুলোর গোড়ার মাটি কেটে নড়বড়ে করে ফেলেছে। যার ফলে প্রায় সব খুঁটিই হেলে পড়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। বিদ্যুত্ বিভাগ খুঁটি সরানোর উদ্যোগ নেওয়ার পর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তারা খুঁটি সরানোর জন্য প্রক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে।
ঝালকাঠি ওজিপাডিকো বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানান, নির্মাণাধীন সড়কে ওজোপাডিকো এবং সওজ বিভাগের যৌথ স্বাক্ষরিত জরিপ রিপোর্টে ২৭৯টি বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়েছে এই কাজে সড়কের ভেতরে। কাজ শুরুর অনেক দিন পর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গত ১৮ ডিসেম্বর খুঁটি সরানোর একটি চিঠি দেয়। আমি সেদিনই উভয় বিভাগের সমন্বয়ে চার সদস্যের একটি কমিটি করে রিপোর্ট দাখিল করতে বলেছি। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী মোট ২৭৯টি বৈদ্যুতিক খুঁটি সরাতে হবে। এরপর আমি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে গত ২৬ ডিসেম্বর আরেকটি চিঠিতে জানতে চাই তারা খুঁটি সরানোর রেট সিডিউল অনুযায়ী প্রাক্কলিত ব্যয় নির্বাহ করতে পারবে কি না। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার কোনো জবাব না পেলেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
ঝালকাঠি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীমা ইয়াসমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি এই সড়কের মোট কত কিলোমিটারের কাজে কতটি খুঁটি পড়েছে তার কাছে এই তথ্য নেই বলে সাংবাদিকদের জানান। কাজের পূর্বে জরিপ করে খুঁটি অপসারণ করা সম্ভব ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সম্ভব নয়। তবে সড়ক থেকে খুঁটি সরানোর জন্য ইতিমধ্যেই বিদ্যুত্ বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
