দীঘিনালার মাইনী নদীতে স্থাপন করা হচ্ছে ‘হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম’। ড্যামটি নির্মাণের ব্যাপারে এরই মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই ও সমীক্ষার কাজও শেষ করেছে উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)। সেচসুবিধা নিশ্চিত করাসহ পরিত্যক্ত ও অনাবাদি জমিতে চাষাবাদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দীঘিনালা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কাসেম। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, মাইনী নদীতে ‘হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম’ স্থাপনের সম্ভাব্যতা ও সমীক্ষা যাচাইয়ের কাজ সম্পাদন করে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। সমীক্ষায় বলা হয়, মাইনী বেইলি ব্রিজের নিকটতম স্থানকেই বেছে নেওয়া হয়েছে ৮০ মিটার প্রস্থের ড্যামটি স্থাপনের জন্য। ৮০ মিটারের বাঁধে ১২ থেকে ১৪টি হাইড্রোলিক দরজা থাকবে যার আলাদা আলাদা সুইচও থাকবে। এতে করে নদীর সাত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জলাধার সৃষ্টি হবে যা নদীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ড্যামটি নির্মাণ করা হলে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমি সারা বছর জুড়ে সেচসুবিধা পাবে।
দীঘিনালার উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কাসেম ইত্তেফাককে জানান,‘মাইনী নদীতে ‘হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম’ স্থাপনের জন্য মত্স্য, কৃষি, পরিবেশ, নদী, মাটি সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) সমীক্ষা যাচাইয়ে কাজ করেছে। ড্যামটি স্থাপিত হলে কারো ভূমি হারানোর ভয় নেই। নদীর বাইরে পানি যাবে না। ড্যামটি নির্মিত হলে চাষাবাদের সুবিধা বাড়বে, সেচের জন্য পানির সংকট থাকবে না, মাছ চাষের সুবিধাও বাড়বে ও পর্যটকদের বিনোদনের স্থান হবে। সম্পূর্ণ বিদ্যুত্চালিত এ প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে তিন বছর সময় লাগার কথা।
