অনুশীলনের জন্য বাড়তি ওয়ানডে

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৫৬

কার্যত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যেটা চেয়েছিল, সেটা হয়েছে। বিসিবিই প্রস্তাব দিয়েছিল, পাকিস্তান সফরে প্রথমে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে ফিরে আসবে বাংলাদেশ দল। এরপর ‘পরিস্থিতি দেখে’ টেস্ট খেলতে যাবে। এখানে বদলটা হয়েছে, পরিস্থিতি দেখার কোনো শর্ত রাখা হয়নি; সরাসরি সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আর পাকিস্তান সফর দুই দফা থেকে বেড়ে তিন দফায় হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে সূচিতে যোগ হয়েছে একটা ওয়ানডেও।

এ নিয়ে কমবেশি সমালোচনা হচ্ছে দেশে। গতকাল আইসিসি সভা থেকে ফেরার পর দেশের মাটিতে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলছেন, পাকিস্তান এই সমঝোতা নিয়ে সমালোচনার কোনো কারণ দেখছেন না তিনি। আর দ্বিতীয় টেস্টের আগে পাকিস্তানের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে এবং অনুশীলনের সুবিধা করে দেওয়ার জন্য রাখা হয়েছে একটা ওয়ানডে ম্যাচ।

আইসিসি সভায় গিয়ে যেভাবে পাকিস্তান সফরের সমঝোতা হলো—সেটা খুলে বলতে গিয়ে পাপন বলেছেন, ‘আইসিসি প্রেসিডেন্ট শশাঙ্ক মনোহরের সঙ্গে আমার আগেই কথা হয়েছিল যে, এই সময়টায় উনি থাকবেন, আমি সময় পেলে যেন দেখা করি। গিয়ে দেখলাম পাকিস্তানও আছে ঐখানটায়। আমাদের আগেই তারা গিয়েছে। উনাদের সঙ্গে কথাও হয়েছে। আমার সঙ্গে যখন প্রথম কথা হলো তখন বলল যে, আড়াইটার সময় আমাদের সঙ্গে বসবে।’

এই বৈঠকে পাকিস্তান বোর্ডের সঙ্গে আলোচনার পর দুটি টেস্ট, তিনটি টি-টোয়েন্টি ও একটি ওয়ানডের সূচি চূড়ান্ত হয়। সেই সূচি নিয়ে পাপন বলছিলেন, ‘(আমরা বলেছিলাম) একটা টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি খেলে আসা যায় কি না। আমরা বলেছি শুধু টি-টোয়েন্টি খেলে চলে আসতে চাই। তার পর একটা সময় যাব। পাকিস্তানের বেশ লস হচ্ছে। পাকিস্তানে গিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে খেলার আগে আমাদের একটা প্র্যাক্টিস ম্যাচ দরকার। ওরা বলেছিল তাহলে আরেকটা টি-টোয়েন্টি করা যায় কি না। টি-টোয়েন্টি হলে তাদের আয়টা কিছুটা পোষাবে। তিন বারে একটা টুর্নামেন্ট হোস্ট করা তাদের জন্য অনেক খরচ বেড়ে গেছে। এত সময়ও নেই তারা নতুন করে মার্কেট করতে পারবে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে টি-টোয়েন্টির চেয়ে একটা ওয়ানডে ম্যাচ হলে অনুশীলনটা একটু ভালো হবে।’

পাপন বলছেন, এই সফরসূচি করার সময় তারা সরকারের নির্দেশনা মাথায় রেখেই করেছেন। তিনি বলছিলেন, ‘সরকার থেকে বলা আছে আগের থেকে আমরা যেটা বলে আসছি সেটাই লেখা আছে। তারা বলেছে শর্ট স্টে। অবস্থা বিবেচনা করে পরবর্তীতে টেস্টগুলো খেলবে। আমরা এখন পর্যন্ত সেই ধারাতেই আছি।’

সবমিলিয়ে এই সফরের ব্যাপারে আর কোনো সমালোচনার কারণ দেখেন না পাপন। তিনি বলছিলেন, ‘আমি জানি না এটা কেন বলছে। ওরা কখনই বলেনি আমরা টি-টোয়েন্টি খেলে আসব। ওরা প্রথমে বলেছে ফুল সিরিজ খেলতে হবে। পরে বলেছে আগে টেস্ট খেলতে হবে। এখন এটা তারা (সমালোচকরা) কেন বলছে এটার কোনো কারণই খুঁজে পাচ্ছি না। আমার কাছে এটা অদ্ভুত লাগছে। আমরা যেটা বলেছি আমার মনে হয় এটাই হয়েছে। আমি যে দিন প্রথম মিডিয়াতে বলেছি, এটাই বলেছি আমরা প্রথমে যাব টি-টোয়েন্টি খেলে আসব পরে আমরা টেস্ট খেলব।’