ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড ধরা হয় উত্তর সিটির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডকে। তবে এখানেও রয়েছে নানা নাগরিক সমস্যা। অন্যদিকে ২০ নম্বর ওয়ার্ডেও রয়েছে ফুটপাত দখল, মশার উপদ্রবসহ একাধিক সমস্যা। এবার কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন প্রার্থীরা।
ওয়ার্ড-১৯ : কড়াইল বস্তি, টিএন্ডটি কলোনি, গুলশান ১ ও ২, নিকেতনের আংশিক ও বনানী এলাকা নিয়ে গঠিত ১৯ নম্বর ওয়ার্ড। অভিজাত এলাকা হলেও এখানে রয়েছে অনেক সমস্যা। এর মধ্যে মাদক, ময়লা আবর্জনা ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা থেকে মুক্তি মিলছে না বস্তিবাসীর। মাদকের ছোবলে আক্রান্ত এখানকার তরুণরা। কড়াইল বস্তিতে নেই পর্যাপ্ত আলো-বাতাস কিংবা পানির ব্যবস্থা। নেই ডাস্টবিন। এছাড়া গুলশান এলাকায় রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। লেকের বিভিন্ন অংশে সরাসরি ফেলা হয় ময়লা আবর্জনা । লেকের পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকান। এবার এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে বর্তমান কাউন্সিলর মফিজুর রহমানকে। তবে এখানেও রয়েছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। বনানী থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান আজাদও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
নাগরিক সেবা ও সমস্যা নিয়ে মফিজুর রহমান বলেন, আমি আমার পরিকল্পিত কাজের প্রায় ৮০ ভাগ সম্পন্ন করেছি। এলাকাবাসী আবার আমাকে নির্বাচিত করলে বাকি ২০ ভাগ কাজ শেষ করে মডেল ওয়ার্ড হিসেবে উপহার দিব।
বিদ্রোহী প্রার্থী মাহমুদ হাসান আজাদ বলেন, এলাকার সর্বস্তরের লোকজনকে নিয়ে এই ওয়ার্ডের উন্নয়নে আমি কাজ করতে চাই। জনগণ আমার পাশে আছে। এই ওয়ার্ডে বিএনপি থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে গুলশান থানা বিএনপির সভাপতি ফারুক হোসাইন ভুঁইয়াকে। ফারুক হোসাইন বলেন, আমি নির্বাচিত হলে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করব। বিশেষ করে কড়াইল এলাকার উন্নয়নে বিশেষভাবে কাজ করব। এই ওয়ার্ডে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছেন সৈয়দ মুঞ্জুর হোসেন।
ওয়ার্ড-২০ : এলাকার মধ্যে রয়েছে মহাখালী, নিকেতনের আংশিক ও সাততলা বস্তি এলাকা। নাগরিক সমস্যার মধ্যে এখানে বেশির ভাগ সড়কবাতি নষ্ট। আবার কোথাও কোথাও বাতিও নেই। ফুটপাত হকারদের দখলে। রয়েছে মশার উপদ্রব। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো সরু। গ্যাসেরও সংকট রয়েছে। এই ওয়ার্ডে এবার আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে বর্তমান কাউন্সিলর মো. নাছিরকে। তবে প্রথমে এ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমানকে সমর্থন দেওয়া হলেও তা পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনি লড়ছেন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনিও। নাছির বলেন, আগে থেকে আমি ওয়ার্ডের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করেছি। ওয়ার্ডবাসী পুনরায় আমাকে নির্বাচিত করলে বাকি সমস্যা সমাধান করব। দলীয় সমর্থন আমার আছে আশা করছি জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।
এই ওয়ার্ডে বিএনপি থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে গুলশান থানা বিএনপির নেতা মিজানুর রহমান বাচ্চুকে। বিএনপির আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন সেলিম আহমেদ। এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হলেন সাইফুল ইসলাম।
