পিইসি পরীক্ষায় আর বহিষ্কার নয়

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২০, ২২:২১

এবার নির্ভয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসি) শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার সংক্রান্ত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিধি বাতিলের প্রশ্নে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট। ঐ রুলের চূড়ান্ত শুনানিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আদালতকে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে যে, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা নির্দেশাবলীর ১১ নম্বর বিধি রহিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিষয়টি আদালতকে অবহিত করলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার জারিকৃত রুল নিষ্পত্তি করে দেন। প্রসঙ্গত এই বিধির ক্ষমতাবলে কোনো পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বন করলে তাকে বহিষ্কার করা হতো।

এর আগে আদালতের তলব আদেশে হাইকোর্টে হাজির হন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল আহমেদ। তার আইনজীবী শেখ শফিক মাহমুদকে আদালত বলেন, শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট বিধিটি কি বাতিল করা হয়েছে? আমরা তো রুল ইস্যু করেছিলাম এ বিধিটি বাতিল করার জন্য। এ সময় ঐ আইনজীবী কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। আদালত বলেন, আমাদের আদেশগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়ন করলে কোর্টে আসতে হতো না।

তখন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার বলেন, হাইকোর্টের রুল জারির পর সংশ্লিষ্ট বিধিটি মন্ত্রণালয় বাতিল করেছে। এরপরই হাইকোর্ট মামলার বাদী-বিবাদী সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে জারিকৃত রুলটি নিষ্পত্তি করে দেন।

এর আগে পিইসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার সংক্রান্ত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল। তিনি বলেন, পিইসি পরীক্ষায় যারা অংশ নিচ্ছে তাদের বয়স ৯ থেকে ১০ বছরের। এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা অসাংবিধানিক। এরপরই হাইকোর্ট ১১ নম্বর বিধি বাতিলের প্রশ্নে রুল জারি করে। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের দ্রুত পরীক্ষা নিয়ে তিন দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের এ নির্দেশের পর পিইসি পরীক্ষায় বহিষ্কৃত প্রায় ৩০০ পরীক্ষার্থীর পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশ করে অধিদপ্তর।