বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানার সংস্কার কার্যক্রম তদারকির লক্ষ্যে নতুন করে গঠিত আরএসসি বা আরএমজি সাসটেইনেবল কাউন্সিল স্থানীয় আইন মেনেই তাদের সব কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ইউরোপীয় ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত সংস্কার তদারককারী জোট অ্যাকর্ডভুক্ত সব কারখানা আরএসসির অধীনে আসবে। জাতীয়ভাবে গঠিত আরএসসির প্লাটফরমের অধীনেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। গত সোমবার আরএসসি ইস্যুতে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও অ্যাকর্ডের প্রতিনিধিদের মধ্যে এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। ঐ সভার পর গতকাল বুধবার উভয় পক্ষের যৌথ বিবৃতি সংবলিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানো হয় অ্যাকর্ডের পক্ষ থেকে।
রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর ২০১৩ সালে গঠিত হয় অ্যাকর্ড। পাঁচ বছর শেষ হওয়ার মধ্যেই একতরফাভাবে তিন বছরের জন্য কার্যক্রমের সময় বাড়ায় অ্যাকর্ড। শুধু তাই নয়, ঐ কার্যক্রম নেদারল্যান্ডসের আইনে চলবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়। এ নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে যায় অ্যাকর্ড। পরবর্তীতে উভয় পক্ষই নিজস্ব অবস্থান থেকে ছাড় দেওয়ার লক্ষ্য নেয়। এরই মধ্যে বিজিএমইএর উদ্যোগে গত চার মাস আগে গঠন করা হয় আরএসসি। আরএসসির অধীনে সব ধরনের পোশাক শিল্প কারখানার নিরাপত্তা ও সংস্কার সংক্রান্ত কার্যক্রম দেখভাল করা হবে। শুরুতে এ কার্যক্রমের অধীনে আসতে না চাইলেও নানা আলোচনার পর উভয় পক্ষই নিজস্ব অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসে এবং আরএসসিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় অ্যাকর্ড। সর্বশেষ সভায় মূলত এটি কীভাবে চলবে, তা ঠিক হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অ্যাকর্ডের লিখিত সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা আরএসতিতে স্থানান্তর হবে এবং বর্তমানের সব ধরনের স্বচ্ছতার বিষয়টি মেনে চলা হবে। বিশেষত কারখানা পরিদর্শনের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। অ্যাকর্ডের অধীনে থাকা কারখানাগুলোর সংস্কার কাজ আরএসসির অধীনে চলমান থাকবে। সব ধরনের স্বাধীনতাসহ আরএসসি প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে এবং তিনি স্বাধীনভাবে তার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। কারখানা মালিক, ব্র্যান্ড ও শ্রমিক প্রতিনিধির সমান সংখ্যক প্রতিনিধি থাকবে আরএসসিতে।
