মার্কিন সিনেটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন বিচার আগামী মঙ্গলবার শুরু হতে পারে। কারণ কয়েক সপ্তাহের অচলাবস্থা শেষে গতকাল বুধবারই ‘আর্টিকেলস অব ইমপিচমেন্ট’ সিনেটে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। এর আগে প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের ঘোষণা দেন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।
সিএনএনের খবরে বলা হয়, ট্রাম্পের বিচার শুরুর জন্য অভিশংসন প্রস্তাব সিনেটে পাঠানো জরুরি। কিন্তু হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এতদিন অভিশংসন প্রস্তাবটি সিনেটে পাঠানোর পদক্ষেপ নেননি। কারণ, তিনি চেয়েছিলেন বিচারের নিয়ম-বিধি এবং প্রক্রিয়ার রূপরেখা ঠিক হওয়ার পরই তা সিনেটে পাঠাতে। তাই এ পদক্ষেপটি নিতে কয়েক সপ্তাহ লেগেছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পেলোসি বলেন, আমেরিকার জনগণ সত্য জানার অধিকার রাখে। আর সংবিধান বিচার দাবি করে। বুধবার আর্টিকেলস অব ইমপিচমেন্ট সিনেটে স্থানান্তর হবে। কিন্তু সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানোর আগে আরো একটি কাজ করতে হবে স্পিকার পেলোসিকে। আর তা হচ্ছে ট্রাম্পের বিচার কাজে সহযোগিতার জন্য কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতার নাম ঘোষণা করা। যাদেরকে বলা হচ্ছে, ‘ইমপিচমেন্ট ম্যানেজার’। গতকাল বুধবার ভোটাভুটির আগে সাতজন ‘ইমপিচমেন্ট ম্যানেজার’ এর নাম ঘোষণা করেন পেলোসি। তারা হলেন, হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডাম শিফ, জুডিশিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান জেরি নাডলার, কংগ্রেসম্যান হাকিম জেফারিস, জো লফগ্রেন, ভাল ডেমিংস, জ্যাসন ক্রো এবং সিলভিয়া গ্রাসিয়া।
গতকাল বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে ম্যানেজারদের নাম ঘোষণা করেন ন্যান্সি। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গতকাল দুপুরে (বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে) এই ম্যানেজারদের অনুমোদন ও আর্টিকেলস অব ইমপিচমেন্ট সিনেটে পাঠানোর বিষয়ে প্রস্তাব সহজেই পাশ হওয়ার কথা।
সিনেটের মেজরিটি লিডার মিচ ম্যাককোনেল জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবারই আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেটে ট্রাম্পের অভিশংসনের বিচার শুরু হতে পারে। সেখানেই সিনেটররা নির্ধারণ করবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পদে থাকবেন কি না। প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন। এখানে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং এখনো পর্যন্ত ৫৩ রিপাবলিকান সদস্যের কেউ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যাওয়ার কথা জানাননি।
গত ডিসেম্বরে ক্ষমতার অপব্যবহার ও কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়ার দুটি অভিযোগে ট্রাম্পকে অভিশংসিত করেছে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দুই জন মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হয়েছিলেন। কিন্তু সিনেটের ভোটে তারা ক্ষমতায় টিকে গিয়েছিলেন।
এদিকে সিনেটে আর্টিকেলস অব ইমপিচমেন্ট পাঠানোর আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার নতুন তথ্য-প্রমাণ হাজির করেছে ডেমোক্র্যাটরা। যাতে দেখা যায় ট্রাম্প জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ইউক্রেনকে চাপ দিয়েছিলেন। এই প্রমাণের মধ্যে টেক্সট মেসেজ রয়েছে। যেখানে দেখা যায়, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূতকে নজরদারিতে রাখার কথা বলা হয়েছে। এগুলো ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি জুলিয়ানির একজন সহযোগী ইউক্রেনীয়-আমেরিকান ব্যবসায়ী লেভ পারনাসের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।
