কাউন্সিলের পর ১৮ দিন চুপচাপ থাকলেও দলে ‘ক্ষমতা’ দেখাতে এবার সক্রিয় হলেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ। ছেলে রাহগির আল মাহিসহ (সাদ এরশাদ) ১৬ জন নেতাকে দলে পদায়ন করেছেন তিনি। জাপার দলীয় প্যাডে রওশন স্বাক্ষরিত চিঠিটি গতকাল বুধবার প্রকাশ করা হয়েছে। রওশনের এই নিয়োগকে ‘বিভ্রান্তিকর’ উল্লেখ করে জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, ‘এই ধরনের নিয়োগ বা পদোন্নতি দেওয়ার কোনো এক্তিয়ার রওশন এরশাদের নেই।’
গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাপার নবম কাউন্সিলের মাধ্যমে রওশন এরশাদকে দলে ‘ক্ষমতাহীন’ প্রধান পৃষ্ঠপোষকের পদ দেওয়া হয়। দলটির প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম এরশাদের মতোই দলে সব ধরনের নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদ সৃষ্টিসহ যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতা গঠনতন্ত্রে দেওয়া হয়েছে নতুন চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকেও। গঠনতন্ত্রে পদায়ন-পদোন্নতির কোনো ক্ষমতা না থাকলেও ১৩ জানুয়ারি স্বাক্ষর করা চিঠিতে রওশন বলেছেন, ‘কাউন্সিলে অর্পিত দায়িত্ব ও প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করার স্বার্থে এই পদায়ন করা হলো। এই মনোনয়ন ও সাংগঠনিক নির্দেশ অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে।’ রওশনের চিঠিটি গতকাল সকালেই প্রকাশ পাওয়ার পর দলটির নেতাকর্মীরা বলছেন, দলে আবারও রওশন ও জি এম কাদেরের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।
রওশন এরশাদ তার ছেলে সাদ এরশাদ ও দলের প্রবীণ নেতা এম এ ছাত্তারকে জাপার কো-চেয়ারম্যান করেছেন। এছাড়া ১১ জনকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তারা হলেন—অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী, অধ্যাপিকা রওশন আরা মান্নান, ফকরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, কাজী মামুন, মাহজাবিন মুর্শেদ, নুরুল ইসলাম নুরু, নুরুল ইসলাম ওমর ও আরিফুর রহমান খান। এর বাইরে আমানত হোসেন ও মো. ইয়াহ্ইয়াকে ভাইস চেয়ারম্যান এবং জসিম উদ্দিন ভূইয়া ও মো. রেজাউল করিমকে যুগ্ম মহাসচিব নিযুক্ত করেছেন।
চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে রওশন এরশাদ গতকাল সন্ধ্যায় সংসদ ভবনে ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘হ্যাঁ চিঠি তো দিয়েছি। ভালো হয়েছে। দলের স্বার্থেই করেছি। এখানে তো দোষের কিছু নেই। যারা যোগ্য, দলে যাদের অবদান রয়েছে তাদেরকেই নিয়োগ দিয়েছি।’ কথা বলার সময় কিছুটা রাগতস্বরে রওশন বলেন, ‘তাদেরকে প্রেসিডিয়াম থেকে কেন বাদ দেওয়া হলো এম এ ছাত্তার একজন পুরনো নেতা। অধ্যাপক দেলোয়ার আমাদের অনেক পুরনো নেতা, দলের জন্য অনেক ত্যাগ রয়েছে তার, এরশাদমুক্তি আন্দোলনে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মতো নেতাদের প্রেসিডিয়াম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, এটা তো হতে পারে না।’
২৮ ডিসেম্বর জাপার কাউন্সিলের পর এক জনকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান, ছয় জনকে কো-চেয়ারম্যান এবং ৩৭ জনকে প্রেসিডিয়ামের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেন জি এম কাদের। ঐ ৩৭ জনের তালিকায় আগে প্রেসিডিয়ামে থাকা ছাত্তার, অধ্যাপক দেলোয়ার, মেজর খালেদ, লিলি চৌধুরী, ফকরুজ্জামান ও কাজী মামুনের নাম রাখা হয়নি।
জিএম কাদেরের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘এভাবে কোনো নিয়োগ দেওয়ার এখতিয়ার প্রধান পৃষ্ঠপোষকের নেই। জাপার নবম কাউন্সিলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক পার্টির বিভিন্ন পদে নিয়োগ প্রদানের ক্ষমতা একমাত্র পার্টি চেয়ারম্যানের, অন্য কারও নেই।’
এদিকে, গতকাল নিজের উপদেষ্টা হিসেবে স্ত্রী শেরিফা কাদের, বোন মেরিনা রহমান ও ভাগ্নি ড. মেহেজেবুন্নিসা রহমান টুম্পাকে নিয়োগ দিয়েছেন জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের ২১ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষেদের মধ্যে গতকাল ৯ জনকে উপদেষ্টা করেন তিনি। অন্য উপদেষ্টারা হলেন—সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, কারি হাবিবুল্লাহ বেলালী, ড. নুরুল আজহার শামীম, মো. হাসিবুল ইসলাম জয়, মনিরুল ইসলাম মিলন ও আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী।
