অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে গ্রাহক ও কর্মচারীদের প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে মোনাভী অল বাংলাদেশ নামের একটি ভুয়া এনজিও। এতে প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক কর্মী ও প্রায় ১ হাজার গ্রাহকের মাথায় হাত উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতারকদের বিচারের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আমতলী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আমানত রাখা শত শত নারী-পুরুষ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
জানা গেছে, মোনাভী অল-বাংলাদেশ নামের ওই ভুয়া এনজিও ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আমতলীতে পণ্য বিক্রি ও বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে গ্রাহক সংগ্রহের কাজ শুরু করে। প্রথমে আমতলী পৌর শহরের সাকিব প্লাজার তৃতীয় তলায় অফিস ভাড়া নিয়ে কাজ শুরু করলেও এ বছরের জানুয়ারি মাসে তারা অফিস বদল করে আমতলী হাসপাতালের দক্ষিণ পাশের একটি ভবনে যায়। গ্রাহক সংগ্রহের জন্য আমতলী উপজেলায় ২০৫ জন প্রতিনিধি নিয়োগ দেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জামাল হোসেন মুকুল। প্রত্যেক প্রতিনিধির কাছ থেকে তিনি ৭০ হাজার টাকা জামানত নেন। বেশি আয়ের আশায় আমতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১ হাজার গ্রাহক টাকা জমা দিয়েছেন। সংস্থাটি ১ লাখ টাকায় দুই বছরে দ্বিগুণ এবং ১ লাখ টাকায় মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করে। এর কর্মকর্তাদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ধরা পড়ে গত সোমবার। ঐ দিন কর্মীদের বেতন দেওয়ার কথা ছিল। সকালে অফিসে এসে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও সংস্থার চেয়ারম্যান জামাল হোসেন মুকুলের দেখা না পেয়ে কর্মীরা হতাশ হয়ে চেয়ারম্যানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তখন কর্মীরা বুঝতে পারেন সংস্থাটি ভুয়া। চেয়ারম্যানের মোবাইল ফোন বন্ধ দেখে ভয়ে অফিসের অন্যান্য কর্মচারীও সটকে পড়েন। একপর্যায়ে কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সব স্টাফ ও আমানতকারীরা আমতলী হাসপাতাল সড়কের অফিসে ভিড় করতে থাকেন। এ সময় আমানত রাখা অনেক গ্রাহককে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখা যায়। ভাঙচুরের খবর পেয়ে আমতলী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে সংস্থাটির কর্মী ও গ্রাহকেরা আমতলী উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
চন্দ া গ্রামের হাছিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘দুই বছরে টাকা দ্বিগুণ বানিয়ে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে। এখন আমার পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় নেই।’ জুয়েল নামে একজন জানান, তার স্ত্রীকে একই লোভ দেখিয়ে এনজিওটি ৪ লাখ টাকা নিয়েছে। জান্নাতি নামের এক কর্মী বলেন, ‘আমি চাকরি নেওয়ার সময় ১ লাখ টাকা জামানত দিয়েছি। এখনো পর্যন্ত বেতন পাইনি।’ আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘এই সংস্থার কোনো স্বীকৃতি নেই। তার পরও তারা কীভাবে কাজ করেছে এবং গ্রাহক বানিয়ে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে টাকা নিয়েছে, তা আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলেছি।’
