রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলা

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজের অন্তর্বর্তী আদেশ ২৩ জানুয়ারি

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২০, ০০:৪৮

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না সে প্রশ্নে আগামী ২৩ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী আদেশ দেবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। গাম্বিয়ার বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয় সোমবার এক টুইট বার্তায় এ কথা জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি তল্লাশি চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নিধন অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মুখে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। ঐ ঘটনার দুই বছরের বেশি সময় পর গত বছরের ১১ নভেম্বর অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) সমর্থনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ দায়ের করে আফ্রিকার ছোটো গাম্বিয়া। গত ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই শুনানিতে গাম্বিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির বিচার বিষয়ক মন্ত্রী আবুবকর তামবাদু। গাম্বিয়াকে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সহায়তা করেছে বাংলাদেশ, কানাডা ও নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে এই মামলা লড়তে আদালতে হাজির হয়েছিলেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি।

শুনানিতে গাম্বিয়া আদালতের কাছ থেকে অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ কামনা করে। দেশটির আইনজীবীরা আদালতকে জানায়, এখনো গণহত্যা হচ্ছে, মিয়ানমারকে তা বন্ধ করতে বলতে হবে। গণহত্যায় জড়িতদের যথাযথ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দিতে হবে এবং গণহত্যার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে। আদালত ছাড়া রোহিঙ্গাদের আর কেউ রক্ষা করতে পারবে না। আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ কয়েক বছর সময় প্রয়োজন। তাই গাম্বিয়া মূল বিচার শুরুর আগে অন্তর্বর্তী পদক্ষেপের জন্য আইসিজের কাছে এই আবেদন করে। অন্যদিকে মিয়ানমারের সু চি রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে দাবি করেন, এই মামলার শুনানি করতে আদালতের কোনো এখতিয়ার নেই।

দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনার পর আইসিজের ১৭ সদস্যের বিচারক প্যানেল বিষয়টি আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তারা ২৩ জানুয়ারির আদেশের বিষয়ে আইসিজের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও আদালত কোনো মন্তব্য করেনি।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং আদালতের সিদ্ধান্ত মানার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে সদস্য দেশগুলোর ওপর। এর বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না। যদিও, বিচারের রায় কার্যকর করার ক্ষমতা আদালতের নেই। সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করারও বহু উদাহরণ রয়েছে।