ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ‘ট্রাম্প চুক্তি’ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এই চুক্তিকে অদ্ভুত বলে উল্লেখ করেছেন। রুহানি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সবসময় অঙ্গীকার লঙ্ঘনেরও অভিযোগ এনেছেন। প্রেসিডেন্ট রুহানি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি সৈন্যদের জন্য বিপদ দেখা দিতে পারে। এদিকে শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, মার্কিন সেনাবাহিনী ও সরকারের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। খবর সিএনএন, আল জাজিরা ও রয়টার্সের
মঙ্গলবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইরানের সঙ্গে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তির বদলে ট্রাম্পের দেওয়া প্রস্তাবিত চুক্তিকে সমর্থন দেন। তিনি ট্রাম্পকে একজন বড়ো সমঝোতাকারী বলেও উল্লেখ করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও গতকাল বরিসের মতকে সমর্থন দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন চুক্তি হলে ইরান কখনো পরমাণু শক্তির অধিকারী হতে পারবে না। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়। মঙ্গলবার ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি ইরানের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে। একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পরমাণু চুক্তি ভেঙে যেতে পারে।
গতকাল টেলিভিশনে এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট রুহানি প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, লন্ডনের প্রধানমন্ত্রী কীভাবে এটা ভাবেন জানি না। তিনি বর্তমান চুক্তিকে পাশে রেখে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত চুক্তিকে মানার কথা বলেছেন। এটা হয়তো তার প্রস্তাব। ভুল পথে না গিয়ে তার সঠিক পথে ফিরে আসা উচিত’। রুহানি মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিদেশি সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। রুহানি বলেন, আজ মার্কিন সৈন্যরা হুমকিতে আছে। কাল ইউরোপীয় সৈন্যরাও হুমকিতে পড়বে। ভারত সফররত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, পরমাণু চুক্তি এখনো মারা যায়নি।
মামলার প্রস্তুতি ইরানের
সিএনএন জানিয়েছে, ইরান সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন সেনাবাহিনী, সরকার ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিচার বিভাগের মুখপাত্র গোলাম হোসেইন ইসমাইলি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এটাই বড়ো প্রমাণ। তিনি বলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মার্কিন সেনাবাহিনী যা করেছে তা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম এই তথ্য জানিয়েছে।
