যবিপ্রবি ভিসিসহ তিন জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২০, ০০:৫০

ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি বিকৃতির ঘটনায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, রেজিস্ট্রার ও জনসংযোগ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী এক মাসের মধ্যে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে বলা হয়েছে। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে অ্যাডভোকেট এম কে রহমান ও রাষ্ট্রপক্ষে  ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার শুনানি করেন।

জানা গেছে, এ ঘটনায় গত বছর হাইকোর্টে রিট করেন যশোর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বিপুল। তখন আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি ছবি বিকৃতির প্রমাণ পায়। ঐ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পুনর্মুদ্রিত ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির পিতার ছবি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছিদ্র করে স্পাইরাল বাইন্ডিং করা হয়। জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি (ছবির মাথা কেটে) বিকৃত করা হয়, যা প্রথম মুদ্রিত ডেস্ক ক্যালেন্ডার থেকে স্পষ্টতই প্রমাণ পাওয়া যায়। জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা তা করেননি। এক্ষেত্রে কোনোভাবেই তারা দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। এরপরই হাইকোর্ট রুল জারি করে। রুলে কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। ঐ রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট এ রায় দেয়।

আইনজীবী এম কে রহমান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যাপারে সংবিধানের ৪(ক) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। যদি জাতির পিতার ছবি বা প্রতিকৃতির বিকৃতি ঘটে তাহলে কোনোভাবেই ব্যক্তিগতভাবে মানহানির মামলার কোনো সুযোগ নেই। ব্যক্তিগতভাবে মানহানির মামলা হলে সে মামলাটি অনেক দুর্বল হয়ে যায় এবং কখনোই এ মামলাটির পরিণতি আসে না। যদি কোনো ব্যক্তি সংবিধানের কোনো অংশ লঙ্ঘন করেন বা লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্র বা সহযোগিতা করেন তবে সেই ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে অভিযুক্ত হবেন।