এই টুর্নামেন্টটিকে বলা হয় ভবিষ্যত তারকাদের প্রদর্শনী।
কথাটা একেবারে ফেলে দেওয়ার নয়। বিশেষ করে গত এক-দেড় দশকের ক্রিকেটের দিকে ফিরে তাকালে এটাকে সত্যি বলে মনে হবে। এই সময়ে বিশ্ব ক্রিকেটে যারা দাপট দেখিয়েছেন, সেই বিরাট কোহলি, সাকিব আল হাসান, জো রুট, কেন উইলিয়ামসন থেকে শুরু করে এবি ডি ভিলিয়ার্স বা অবসরে চলে যাওয়া গ্রায়েম স্মিথ; সবাই উঠে এসেছেন এই অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে।
আজ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় শুরু হচ্ছে সেই যুব তারকাদের সেরা আসর—অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। কিম্বার্লিতে আজ উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তান।
বাংলাদেশ দলের এই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে আগামীকাল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আকবর আলীর দল পচেফস্ট্রুমে মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ের। এ ছাড়া ২১ তারিখ স্কটল্যান্ড ও ২৪ তারিখ পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ যুব দল।
যুব বিশ্বকাপ ইতিহাসের সফলতম দল ভারত। সর্বশেষ আসরে, ২০১৮ সালেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। সবমিলিয়ে ৪টি শিরোপা জিতেছে ভারত অনুর্ধ্ব-১৯ দল। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া ৩টি ও পাকিস্তান ২টি শিরোপা জিতেছে। একবার করে যুব বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস আছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের।
বাংলাদেশের সেরা সাফল্য তৃতীয় স্থান অধিকার করা। ২০১৬ সালে ঘরের মাটিতে সেমিফাইনালে হেরে গিয়েছিলো তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। অবশ্য সে আসরে সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
এবার আসরে প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে জাপান ও নাইজেরিয়ার অনুর্ধ্ব-১৯ দল। সবমিলিয়ে ১৬টি দল অংশ নেবে এবারের টুর্নামেন্টে। মূলপর্ব ও প্লেটপর্ব মিলিয়ে আয়োজিত হবে ৪৮টি ম্যাচ।
আইসিসি বলছে, এবার দর্শক বিচারে বৃহত্তম যুব বিশ্বকাপ আয়োজিত হতে যাচ্ছে। সবমিলিয়ে ২০টি ম্যাচ এবার সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ভারতীয় উপমহাদেশে এই সম্প্রচারের কাজটা করবে স্টার স্পোর্টস। এ ছাড়া উপমহাদেশে আইসিসির ফেসবুক পেজে ‘প্রায় সরাসরি’ ম্যাচ সম্প্রচার এবং হাইলাইটস ও অন্যান্য জিনিস শেয়ার করা হবে।
এই টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের মালিক এউইন মরগ্যান; তিনি ৬০৬ রান করেছিলেন। এ ছাড়া এক আসরে সর্বোচ্চ ৫০৫ রান করার রেকর্ড আছে শিখর ধাওয়ানের। টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৭টি উইকেটের মালিক মোয়েস হেনরিকস ও গ্রেগ থম্পসন। এক আসরে সর্বোচ্চ ২২টি উইকেট নেওয়ার রেকর্ড বাংলাদেশের এনামুল হক জুনিয়রের।
