সুশিক্ষা ও সুস্বাস্থ্য

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৫০

সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মানুষের মনোজগতের উপর ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করিয়া থাকে; শিশুর ক্ষেত্রে ইহা অধিক প্রযোজ্য। পরিবারের বাইরে শিশুর শিক্ষার কেন্দ্র হইল বিদ্যালয়। এইখানে সে উল্লেখযোগ্য একটি সময় ব্যয় করিয়া থাকে। তাই বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখিবার কোনো বিকল্প নাই; বিশেষ করিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় যেইখানে কোমলমতি শিশু শিক্ষা লইয়া থাকে। আমরা জানি, শিক্ষা কেবল পাঠ্যপুস্তককেন্দ্রিক নহে, বরং চারিপাশের পরিবেশ-প্রতিবেশ হইতেই শিশুরা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা লইয়া থাকে। তাই একটি বিদ্যালয় সার্বিকভাবে হইতে হইবে শিশুর সুষম বিকাশের উপযোগী। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে বেশ অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটিয়াছে। সেইখানে একটি ন্যূনতম স্যানেটারি-ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হইয়াছে; কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হইল, সঠিক দেখভালের অভাবে বেশির ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই স্যানেটারি-ব্যবস্থা নষ্ট হইয়া পড়িতেছে; সৃষ্ট অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়িতেছে শিক্ষার্থীরা।

তেমনি অবস্থা টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের পুষ্টকামুরী সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। সেইখানে দুর্গন্ধযুক্ত টয়লেট ও বেসিন ব্যবহারে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে রহিয়াছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ও পরিচালনা পরিষদের উদাসীনতায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিক্ষার্থীরা এইসব টয়লেট ও বেসিন ব্যবহারে বাধ্য হইতেছে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত পুষ্টকামুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পর্যায়ক্রমে মডেল স্কুল হিসাবে প্রতিষ্ঠা পায়। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিশুশ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৬১২ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করিতেছে। শিক্ষার্থীরা যেইসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, তাহা পাইতেছে না বলিয়া অভিযোগ আছে। নানা সমস্যার পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতেও রহিয়াছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কয়েক বত্সর পূর্বে বিদ্যালয়টির নূতন ভবন নির্মিত হয়। ইহার সহিত নির্মিত হয় স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা; কিন্তু বর্তমানে এমন অবস্থা হইয়াছে যে, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ময়লার স্তূপ থাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধে নাক-মুখ চাপিয়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ করিতে হয়। বিদ্যালয়টির স্যানেটারি-ব্যবস্থার এই দুর্গতি কাম্য নহে। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষিকা ও বিদ্যালয়টির পরিচালনা পরিষদ যে তাহাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে নাই তাহা বলাই বাহুল্য। তাহাদের কারণে শিক্ষার্থীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়িয়াছে। আমরা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করি। তিনি যেন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়া ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ের নির্মলতা ফিরাইয়া আনেন। 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা নিয়া শিক্ষামন্ত্রী মাত্র কিছুদিন আগে যে ঘোষণা দিয়াছিলেন তাহা উল্লেখ করিতে হয়। তিনি চাহিয়াছিলেন সপ্তাহে এক দিন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিলিয়া বিদ্যালয় পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন করিবে। শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার পর কিছু স্কুল-কলেজ তাহা শুরু করিয়াছিল। বর্তমানে সেই কার্যক্রম আবারও মন্থর হইয়া পড়িয়াছে। আমরা আশা করি, প্রত্যেকে স্ব স্ব স্থান হইতে অর্পিত দায়িত্ব পালন করিবে। তাহা হইলেই আমরা সারাদেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়গুলিকে স্বাস্থ্যগত দিক দিয়া নিরাপদ করিয়া তুলিতে পারিব।