শ্রীমঙ্গলের পুরানবাজারে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি প্রায় তিন বছর ধরে উদ্বোধনের অপেক্ষায় পড়ে আছে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও দ্রুত ভবনটি চালুর আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা এলডিইডি কার্যালয় টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে ২০১৬ সালের মে মাসে চারতলা বিশিষ্ট এই মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি নির্মাণের কাজ শুরু করে, যা এক বছরের মাথায় ২০১৭ সালের মে মাসে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার কথা। যথাসময়ে নির্মাণ কাজ শেষ হলেও ত্রুটিমুক্ত না হওয়ায় তিন বছর ধরে উদ্বোধনের অপেক্ষায় ঝুলে আছে।
এদিকে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডিং কমিটিতেও ভাটা দেখা দিয়েছে আড়াই বছর ধরে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার কুমুদ রঞ্জন দেব জানান, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত তিন বছর মেয়াদি নির্বাচনে তিনি কমান্ডার হিসেবে নির্বাচিত হন। ঐ সময়ের নির্বাচিত সংসদ কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কারণে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে সংসদটি বিলুপ্ত করা হয়। বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের আওতায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি পরিচালিত হচ্ছে। সংসদ বিলুপ্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত এখানে আর কোনো নির্বাচন না হওয়ায় কিংবা নির্বাচন প্রস্তুতির কোনো লক্ষণ না থাকায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা নিষ্ক্রীয় অবস্থায় আছেন বলে জানান তিনি। উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সঞ্জয় মোহন সরকার বলেন, নির্মাণ কাজে খুব বেশি ত্রুটি নেই। তবে কয়েকদিনের মধ্যেই এসব ত্রুটিমুক্ত করে যথাযথ নিয়মে ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড নির্বাচন বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কোনো হস্তক্ষেপ নেই বলে উল্লেখ করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুসারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে যতদিন এখানে নির্বাচন হচ্ছে না বা কোনো সংসদ কমান্ড গঠিত হচ্ছে না ততদিন স্থানীয় ইউএনও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করবেন।
