প্রথম ট্রফির সন্ধানে খুলনা-রাজশাহী

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৪২

ইঙ্কারম্যান, ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ট্রফি-সুভ্যেনির তৈরির প্রতিষ্ঠান। বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ট্রফিটা লন্ডনের এই প্রতিষ্ঠানেই তৈরি হয়েছে। গতকাল দুপুরের পর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় সোনালি ট্রফিটা দেখতেই যেন চোখ চিকচিক করে উঠল মুশফিকুর রহিমের। নিজে থেকেই বলে উঠলেন, ওয়াও-ওয়াও।

ট্রফিতে নিবদ্ধ মুশফিকের চোখে-অবয়বে ছিল, বিপিএলের ট্রফি জয়ের সুতীব্র বাসনা। বলা বাহুল্য, প্রথম বার             বিপিএলের ফাইনালের মঞ্চে এসেছেন তিনি। সপ্তম চেষ্টায় এসে ট্রফির দুয়ার থেকে শূন্য হাতে ফিরতে চান না মুশফিক। ট্রফিসহ ফটোসেশনের পর উইকেটের ওপরও চোখ বুলিয়েছেন তিনি। তবে ফাইনালের চাপে কিছুটা হলেও দ্রবীভূত এখন মুশফিক! কারণ চাপ না নিতেই নাকি ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে আসেননি খুলনা টাইগার্সের অধিনায়ক।

শুধু কি মুশফিক, দুই ফাইনালিস্ট খুলনা, রাজশাহী রয়্যালসও প্রথম বিপিএল ট্রফির সন্ধানে থাকবে আজ। বিপিএলের ইতিহাসে প্রথম বার ট্রফির মঞ্চে আসল খুলনা। পদ্মা পাড়ের দলটির অবশ্য এটি দ্বিতীয় ফাইনাল। এর আগে ২০১৬ সালে ফাইনালে উঠেও ঢাকার কাছে ট্রফি হারিয়েছিল রাজশাহী বিভাগের দলটি। তবে বিপিএলের শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা আছে আন্দ্রে রাসেলের।

মিরপুর স্টেডিয়ামে আজ বিপিএলের ফাইনালে লড়বে খুলনা-রাজশাহী। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

আজ ফাইনালে অধরা ট্রফি জিততে মুখিয়ে থাকবে দুই দল। শক্তির বিচারে ব্যবধান কম। তবে ফর্ম, ছন্দ, দলগত পারফরম্যান্স মিলে এগিয়ে খুলনা। টুর্নামেন্টে দুই দলের লড়াইয়েও এগিয়ে মুশফিক বাহিনী। লিগ পর্ব, কোয়ালিফায়ার মিলে তিন বার সাক্ষাত্ হয়েছে, যার মধ্যে দুই বারই জিতেছে খুলনা। শান্ত, মিরাজ, মুশফিক, রাইলি রুশোরা ব্যাটিং দলটির মূল অস্ত্র। বোলিংয়ে আমির, শফিউল, শহীদুল, ফ্রাইলিঙ্ককরা দারুণ ছন্দে আছেন। রাজশাহীর জন্য লিটন-আফিফের ওপেনিং জুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওপেনিংয়ে বড়ো জুটি হলে শোয়েব মালিক, আন্দ্রে রাসেলরা ঝড় তুলতে পারেন সহজে। অলরাউন্ডারে ঠাসা দলটার বোলিংয়ে আছে দারুণ বৈচিত্র্য। আগে দুই বার হারলেও আজ খুলনাকে থামিয়ে দিতে সর্বস্ব নিংড়ে দিবে রাজশাহী।

উল্লেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিপিএলের বিশেষ আসর এবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের বাদ দিলেও বঙ্গবন্ধু বিপিএলে খেলেছে সাতটি দল। গত ৮ ডিসেম্বর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠেছিল বিপিএলের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেছিলেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটে হয়েছে ম্যাচ। ৩৮ দিনের টি-২০ ক্রিকেট উত্সব শেষ হচ্ছে আজ।