রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে রহস্যজনক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরের যে কোনো সময়ে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভবনের দোতলার পেছনের জানালার গ্রিল কেটে জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, বাড্ডা ও উত্তরার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের মূল্যবান শত শত দলিল ও বালাম বই চুরি করেছে। চোর চক্র এতটাই সতর্ক ছিল যে তারা সিসি ক্যামেরার কম্পিউটারের হার্ডডিক্স এবং ভবনের কেন্দ্রীয় সিসি ক্যামেরার ডিভিডি পর্যন্ত নিয়ে গেছে।
এক দিন পরও এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ কোনো মামলা দায়ের করেনি। অফিস থেকে কী পরিমাণ দলিল ও বালাম বই চুরি হয়েছে, সে বিষয়টিও তদন্ত করেনি কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সকালে চুরির খবর পেয়ে সিআইডির ক্রাইম সিন বিভাগ ঘটনাস্থল থেকে চুরির বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করে।
পুলিশ ধারণা করছে, এই চুরির সঙ্গে ভূমি ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত। উত্তরা ও বাড্ডা এলাকার ২০০৬ সালের পর সম্পন্ন হওয়া দলিলগুলো টার্গেট ছিল ঐ চোর চক্রের।
জেলা রেজিস্ট্রার সাবেকুন নাহার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘সকালে কর্মচারীরা এসে ভবনের পেছন দিকের জানালার গ্রিল ভাঙা এবং কক্ষ তছনছ অবস্থায় পায়। ঠিক কী কী চুরি হয়েছে, তার পুরো হিসাব এখনো করা যায়নি। আমরা বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখছি।’
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি আলী হোসেন বলেন, খবর পেয়ে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছে। তবে কী পরিমাণ দলিল বা বালাম বই চুরি হয়েছে, সেটি শুক্রবার রেজিস্ট্রেশন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে তদন্ত করবেন। এরপর এ বিষয়ে মামলা দায়ের হবে। তবে উত্তরা ও বাড্ডা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চুরি হলেও বৃহস্পতিবার ঐ দুই অফিসের কার্যক্রম চলেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের নভেম্বরে এবং ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে দুই দফা চুরি হয়। ঐ দফায় বাড্ডা ও উত্তরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চুরি হয়। বালাম বই ও কয়েক হাজার দলিল চুরি হয়। ঐ দুই ঘটনার কোনো কূলকিনারা হয়নি। পরবর্তী সময়ে চুরি ঠেকাতে ভবনের বিভিন্ন অংশে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসায় কর্তৃপক্ষ। এবার সেই ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করা কম্পিউটারের হার্ডডিস্কও খোয়া গেল।
