আটকের পর থানায় নির্যাতন করে আলমগীর হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তপন চন্দ্র সাহাসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বাদী হয়ে এ মামলা করেন নিহতের স্ত্রী মোছা. আলো বেগম। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। তবে গতকাল পর্যন্ত কোনো আদেশ হয়নি। মামলার অপর আসামিরা হলেন- উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মো. মিজানুর রহমান, এএসআই নামজুল ও মো. সোহাগ।
জানা গেছে, আলমগীর প্রাইভেটকার চালাতেন। গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা সদরের কালিবাড়ি এলাকায়। রাজধানীর উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ফুলবাড়িয়াতে স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে থাকতেন আলমগীর। আলমগীর ১১ বছর ধরে ঢাকায় ব্যক্তি মালিকানার গাড়ি চালাচ্ছেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকেন উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরে। ১৬ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে যায়। ঐ দিন রাতে থানায় রেখে রাতভর মারপিট করা হয়। থানা থেকে মুক্তি পেতে তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করে। ঐ মামলায় পুলিশ তাকে আদালতে পাঠায়। আদালতে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর সময় তিনি পড়ে যান। তার দুই পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কারাগারে আলমগীর অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৯ ডিসেম্বর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিত্সকরা মৃত ঘোষণা করেন।
আলমগীরের স্ত্রী আলো বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী কোনো দিনই ইয়াবা সেবন বা ব্যবসা করেননি। বিনাদোষে তার স্বামীকে পুলিশ ধরে নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। রাতভর থানায় তাকে মারধর করেছে পুলিশ। এর সুুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।
