সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সরস্বতী পূজার দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘোষণার পর নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। স্মারকলিপি প্রদান, বিক্ষোভ, শাহবাগ অবরোধ, নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রার পর এবার আমরণ অনশনে বসেছেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মসূচি পালনের ঘোষণাও দেওয়া হয় রাজু ভাস্কর্য থেকে।
এর আগে দুই দিন শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা। বুধবার নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালনকালে শাহবাগে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হন তারা। পরে কয়েক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আমরণ অনশনে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ শিক্ষার্থী।
আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের ভিপি উত্পল বিশ্বাস বলেন, সরস্বতী পূজার দিনে নির্বাচন দিয়ে একধরনের বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনি বলেছেন পূজা নাকি হবে ২৯ তারিখ নির্বাচন হবে ৩০ তারিখ। আমরা বলতে চাই পূজা ২৯ তারিখ শুরু হলেও এর মূল আনুষ্ঠানিকতা ৩০ তারিখ। সরস্বতী পূজার দিনে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে যারা তাদের পদে থাকার কোনো দরকার নেই। নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন না করা হলে ধরে নেব এদেশে ধর্মের কোনো স্বাধীনতা নেই। আর যে দেশে ধর্মের স্বাধীনতা নেই, সে দেশ অসাম্প্রদায়িক নয় বলে আমরা মনে করি।
জগন্নাথ হল সংসদের জিএস কাজল দাস বলেন, ‘আমাদের এ আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়, নির্বাচন কমিশনের অসাংবিধানিক ও সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এ আন্দোলন। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাব। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন ডাকসুর সদস্য রাইসা নাসের, মাহমুদুল হাসান, ছাত্রলীগের বিভিন্ন হলের নেতৃবৃন্দসহ অনেকে।’
