নতুন স্পট হবে শেখেরটেক, আলীবান্দা, কালাবগি ও কৈলাশগঞ্জ
এনামুল হক, খুলনা অফিস
সুন্দরবনে বাড়ছে পর্যটন স্পট। পুরোনো পর্যটন স্পটগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়ন এবং নতুন আরো চারটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন স্পট নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী জুলাই মাস থেকে নতুন এই চারটি পর্যটন স্পটের নির্মাণকাজ শুরু হবে। চার বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।
সুন্দরবন বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, নতুন চারটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন (ইকো ট্যুরিজম) স্পট নির্মাণ হলে বিশ্ব ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অপার লীলাভূমি সুন্দরবনের প্রতি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ আরো বাড়বে। সুন্দরবন বন বিভাগ সূত্র জানায়, প্রতি বছর শত শত দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবনে ভ্রমণ করে। দেশি-বিদেশি এই পর্যটকদের জন্য সুন্দরবনে আকর্ষণীয় সাতটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন স্পট রয়েছে। এই পর্যটন স্পটগুলো হচ্ছে :করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, দুবলার চর, নীলকমল (হিরণ পয়েন্ট) ও কলাগাছিয়া। এর মধ্যে কটকা ও কলাগাছিয়ায় ছোটো আকারের রেস্ট হাউজ রয়েছে। তবে সহজ ও সময় কম লাগার কারণে দেশি পর্যটকরা বেশি যায় করমজল ও হারবাড়িয়া পর্যটন স্পটে। গত অর্থ বছরে (২০১৮-১৯) সুন্দরবনের এই সাতটি পর্যটন স্পটে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছে। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন বিদেশি পর্যটক ছিলেন। ঐ অর্থ বছরে সরকার সুন্দরবনের পর্যটন খাত থেকে প্রায় ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা আয় করেছে।
এদিকে প্রতিবছরই সুন্দরবনের পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুন্দরবনে পর্যটক বৃদ্ধির কারণে সুন্দরবন বন বিভাগের পক্ষ থেকে পুরোনো পর্যটন স্পটগুলোর উন্নয়ন ও আকর্ষণীয় আরো চারটি নতুন পরিবেশবান্ধব পর্যটন স্পট নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই চারটি পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে : সুন্দরবনের শেখেরটেক, আলীবান্দা, কালাবগি ও কৈলাশগঞ্জ। এই পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের জন্য ওয়াচ টাওয়ার, ঝুলন্ত ব্রিজ, হাঁটাহাঁটির জন্য ফুট ট্রেইল, বসার জন্য গোলঘর ও নৌযান থেকে ওঠানামার জন্য নদীর পাড়ে পন্টুন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া পুরোনো পর্যটন স্পটগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হবে। নতুন এই চারটি পর্যটন স্পট নির্মাণ ও পুরোনো পর্যটন স্পটগুলোর উন্নয়নে ব্যয় হবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। ‘সুন্দরবনের পরিবেশবান্ধব পর্যটন সুবিধাদি উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প’ নামের চার বছর মেয়াদি এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী জুলাই মাস থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে। প্রকল্পটি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে কটকায় একটি ইন্টারপ্রেটেশন সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও বন বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান।
বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, নতুন চারটি পর্যটন স্পট নির্মাণ হলে সহজ যাতায়াতের কারণে পর্যটকেরা সকালের মধ্যে সুন্দরবনে গিয়ে বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও জীব-বৈচিত্র্য উপভোগ করার পর সন্ধ্যার মধ্যে আবার ফিরে আসতে পারবে। ফলে সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া সুন্দরবন কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের ভারে বনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো এবং পর্যটকদের ভ্রমণ আরো সুচারুভাবে ব্যবস্থা করার জন্য আরেকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের দিয়ে জরিপ করা হচ্ছে। এই জরিপে একদিনে সুন্দরবন সর্বাধিক কত সংখ্যক পর্যটক ধারণ করতে পারে তা নিরূপণ করা হচ্ছে। এ জরিপ সম্পন্ন হলে প্রতিটি পর্যটন স্পটের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী সেই সংখ্যক পর্যটককে পর্যটন স্পটে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মো. মঈনুদ্দিন খান বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের প্রতি পর্যটকদের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আরো চারটি পর্যটন স্পট নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে এই চারটি পর্যটন স্পটের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এই চারটি পর্যটন স্পট নির্মাণ করতে ব্যয় হবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নতুন এই চারটি পর্যটন স্পট নির্মাণ হলে সহজ যাতায়াত সুবিধার কারণে সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে।
