দুর্ভোগে শ্রমিকরা
নূরুল মোহাইমীন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
মৌলভীবাজারে শ্রম আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়নি এখনো। বিভিন্ন সমস্যাজনিত মামলার জন্য সিলেট বিভাগের শ্রমিকদের দ্বারস্থ হতে হয় চট্টগ্রাম শ্রম আদালতে। তবে দীর্ঘদিনেও শ্রম আদালত চালু না হওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন লাখো শ্রমিক।
শ্রমিক সংগঠনের নেতারা জানান, গত বছরের ২৪ জুন প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে চট্টগ্রামস্থ দ্বিতীয় শ্রম আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূত হওয়ায় সিলেট বিভাগের কোনো মামলা গ্রহণ করা হয়নি। পরবর্তীতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে চট্টগ্রাম শ্রম আদালত অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সিলেট শ্রম আদালতের মামলা গ্রহণ করছেন। চা-শ্রমিক সংঘের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক রাজদেও কৈরী বলেন, দৈনিক ১০২ টাকা মজুরিতে আমাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। কোনো কারণে চাকরিতে সমস্যা হলে শ্রম আদালতের জন্য চট্টগ্রামে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে আমরা আইনীভাবে প্রতিকার চাইতেও পারি না। জরুরিভাবে সিলেট শ্রম আদালত চালু করা দরকার।
মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সিলেটে শ্রম আদালত ঘোষণা দেওয়া হলেও এর কার্যক্রম চালু হয়নি। আমরা শ্রম আদালতের কার্যক্রম শুরুর দাবিতে মিছিল, সভা-সমাবেশ করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস বলেন, লক্ষাধিক চা-শ্রমিকসহ কয়েক লাখ শ্রমিকের জন্য আদালতের কার্যক্রম শুরু করা জরুরি। শ্রীমঙ্গলে শ্রম আদালত চালুর পক্ষেও তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ জেলায় অনেক শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে এবং মৌলভীবাজারের শেরপুরে শ্রীহট্ট ইকনোমিক জোনের কার্যক্রমও শুরু হচ্ছে। শ্রমঘন এলাকা হিসেবে এসব এলাকার শ্রমিকদের সুবিধাজনক স্থান হিসেবে শ্রীমঙ্গলে শ্রম আদালত চালু করা যৌক্তিক। তাছাড়া কয়েক বছর আগে শ্রীমঙ্গলে সার্কিট আদালত চালুও ছিল। এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গলস্থ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মো. মাহবুবুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, শ্রম আদালত চালু হলে শ্রমিকদের অধিকার সমুন্নত হবে। মৌলভীবাজারে না হলে সিলেটে হলেও শ্রমিকদের ভোগান্তি লাঘব হবে। আশাকরি শ্রম আদালত দ্রুত স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে বিষয়টি আসবে।
