সাইদুর রহমান
শেয়ারবাজার মানেই উত্থান-পতনের জায়গা। কিন্তু পতন যদি পরিকল্পিত ও ছক মাফিক হয়, সেটাকেই বলে পুকুর চুরি। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাজার হাজার কোটি টাকা নিজেদের গতিপথ দিয়ে প্রমাণ সাপেক্ষে, শেয়ারবাজি করে নিয়ে গেল। লাখ লাখ খুদে বিনিয়োগকারী নিঃস্ব হয়ে গেল। টাকার শোকে কেউ পাঁচতলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে, আবার কেউ সন্তানের মুখে খাবার দিতে না পেরে গলায় দড়ি দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১০ সালে। আমাদের দেশের পুঁজিবাজার আন্তর্জাতিক মানের। কিন্তু আমাদের দেশের শেয়ারবাজারের গেইমলাররা সেই আন্তর্জাতিক মানের স্কুলের হেডমাস্টার।
পুঁজিবাজার স্পর্শকাতর জায়গা। সবাইকে জ্ঞানদান থেকে বিরত থাকতে হবে। এ বছর নতুন বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো প্রণোদনা নেই। তারপর প্রাসঙ্গিক কথা হলো, পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে হলে দুটি খাতকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে—একটি হলো মিউচুয়াল ফান্ড, অন্যটি ব্যাংকিং খাত। এর সঙ্গে আংশিক ভূমিকা রাখে নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাত ও বিমা খাত। বর্তমানে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর শেয়ারের দাম অভিহিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম। অথচ তারা নিয়মিত লভাংশ দিচ্ছে। আবার ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলো বিগত বছরে যে হারে লভাংশ দিচ্ছে, তাতে করে শেয়ারের দাম অভিহিত মূল্যের চেয়ে তিন-চার গুণ বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু এখনো অনেক ব্যাংকের শেয়ারের দাম ফেইসভ্যালুর চেয়ে সামান্য বেশি অথবা কম। এ দিক দিয়ে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মেয়াদি আমানতে, বছরে সুদ দিচ্ছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ। এতে করে মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখতে অনিহা দেখাচ্ছে। অপর দিকে ব্যাংকগুলোতে দিনে দিনে টাকার তারল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে ডিএসই সূচক ছিল ৮৯১৪৫ পয়েন্ট, মোট কোম্পানি ছিল ২৪৪টি, মোট লেনদেন ছিল ৩৩ কোটি টাকা। তখন পি/ই রেশিও ছিল বেশি।
অন্যদিকে ২০২০ সালে ডিএসই সূচক ৪১৫০ পয়েন্ট, মোট কোম্পানি ৩৫২টি আর মোট লেনদেন ২৪২ কোটি ৮১ লাখ টাকার মতো। পি/ই রেশিও বেশ ভালো। বিগত ৯ বছরে অনেক কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। সূচক কিংবা লেনদেন কোনোটাই আগের কোটায় পৌঁছাতে পারেনি। তাই বর্তমানে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ঝুঁকি কম।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের রক্ষার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। বিশেষ করে এই দিকগুলো কঠোরভাবে নজরদারি করতে হবে। যেমন :পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থ শিল্প খাত ছাড়া অন্য কোথাও ব্যবহার রোধ করতে হবে, আইপিওতে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে, প্রিমিয়াম নেওয়ার নামে কোনো শেয়ার পুঁজিবাজারে আসার আগেই অতিমূল্যায়িত করা রোধ করতে হবে, প্রতিটি কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন সঠিকভাবে প্রদানে বাধ্য করতে হবে।
শক্তিশালী ও স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের জন্য ডিএসই, সিএসই, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থাত্ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে সত্ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
‘পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ঝুঁকি আছে, আগে ভালোভাবে জানুন, তারপর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করুন।’
n লেখক :সাবেক আহ্বায়ক, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ফোরাম, চট্টগ্রাম
