ব্রত হোক প্রকৃতি পরিবেশ রক্ষা

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ২২:০৪

সাধন সরকার

যতই দিন যাচ্ছে ততই মানুষের তৈরি অবকাঠামো বাড়ছে আর প্রকৃতি-পরিবেশ যেন কমে যাচ্ছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদ-নদী আজ অনেকটাই অবহেলিত। একসময় নদীকেন্দ্রিক ছিল এদেশের মানুষের জীবনজীবিকা। কিন্তু গত তিন দশকে দখল-দূষণ আর ভরাট হয়ে অনেক নদ-নদী হারিয়ে গেছে। অনেক নদ-নদী দখল-দূষণ আর ভরাটের কবলে পড়ে ধুঁকছে। যদিও নদী দখলকারীদের তালিকা এখন সরকারের কাছে রয়েছে। তাই দেশের স্বার্থে নদী দখল-দূষণ আর ভরাটের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কেননা নদ-নদী এখন জীবন্ত সত্তা। নদ-নদীগুলো এদেশের সম্পদ, মাটি আর মানুষের সাথে নদ-নদীর রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। নদ-নদী রক্ষা করা না গেলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হবে। বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণ তো আছেই! এখন বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণ আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সতর্ক, সচেতনতা আর পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার ও আইনের প্রয়োগ বাড়াতে পারলে দূষণ রোধ করা মোটেও কঠিন ব্যাপার নয়। নদী দখলদারদের তালিকার মতো দূষণকারীদের তালিকা প্রকাশ করা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি বললেও অত্যুক্তি হবে না।

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো জলবায়ু পরিবর্তন। দোষারোপ পেছনে ফেলে উন্নত বিশ্বের দেশসমূহকে ‘প্যারিস চুক্তি’র শর্ত মেনে কার্বন নিঃসরণ কমাতে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। একটু একটু করে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি জলবায়ুগত দুর্যোগে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার সব ধরনের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে, তা না হলে মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগের কাছে মানুষই হেরে যাবে! জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব ঠেকাতে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ ধারাবাহিকভাবে কমাতে এখনও একমত হতে পারেনি উন্নত দেশগুলো। ফলে মাদ্রিদের ‘কপ-২৫’ জলবায়ু সম্মেলন ব্যর্থতায় রূপ নিয়েছে! দুঃখজনক হলেও সত্য যে, প্রকৃতি-পরিবেশ ভালো না থাকলে অর্থাত্ বিভিন্ন ধরনের পরিবেশগত দূষণ ও সমস্যা বাড়তে থাকলে, জলবায়ুর বিশৃঙ্খল আচরণে দাবানলসহ বিভিন্ন দুর্যোগ দেখা দিলে তা কোনো না কোনোভাবে মানুষের জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বদলে পিছিয়ে দেয়!

এদিকে মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে ওলট-পালট করে দিচ্ছে বায়ূদূষণসহ বিভিন্ন ধরনের দূষণ। আচমকা দুর্যোগ ফসলসহ চারপাশের পরিবেশকে বদলে দিচ্ছে। তবুও আমরা কার্বন নিঃসরণ কমানোসহ প্রকৃতি-পরিবেশ রক্ষার প্রতি কেন জানি উদাসীনতার পরিচয় দিয়েই চলেছি! দূষণ আর সব ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করে বিশ্বকে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে বৃক্ষরোপণ। বৃক্ষরোপণের প্রতি সব পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পারলে দূষণসহ জলবায়ুগত সমস্যা কিছুটা হলেও মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

মনে রাখতে হবে, প্রকৃতি-পরিবেশের উপাদান যত বেশি কমতে থাকবে ততই বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে এই পৃথিবী! শিশু ও কিশোর শিক্ষার্থীদের যদি ছোটবেলা থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জলাশয় সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা, বৃক্ষরোপণের মতো বিষয়গুলোর সাথে সম্পৃক্ত করা যায় তাহলে এই কোটি কোটি শিক্ষার্থী ছোটবেলা থেকেই নিজেদের টেকসই ভবিষ্যত্ ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা সম্পর্কেও সচেতন হবে। দরকার শুধু পরিকল্পনা আর কার্যকর উদ্যোগ। 

ঢাকা