লিয়াকত হোসেন খোকন
শিল্প কলকারখানা এলাকায় আবাসিক বাড়িঘর রাখা যাবে না আর আবাসিক এলাকায় কোনো ধরনের ছোট বড় উত্পাদন ঘর বা উত্পাদন কলকারখানা, গার্মেন্টস, ইন্ডাস্ট্রি কিছুই রাখা যাবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে এ প্রস্তাবনার বাস্তবায়ন দেখাতে পারলেই অগ্নিকাণ্ড ঠেকানো সম্ভব হবে। যারা শিল্প কলকারখানা এলাকায় বাড়িঘর করে বসবাস করছেন তারা ওখান হতে আবাসিক এলাকায় এসে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস শুরু করলেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা থেকে নিরাপত্তা পাবেন। শিল্প এলাকায় কেন থাকবে আবাসিক ভবন আর বাড়িঘর? অনিয়ম আরো আছে, কাগজে কত এলাকার নামের সঙ্গে আছে আবাসিক এলাকা। আবাসিক এলাকা বলতে সহজ কথায় বুঝায়, সেখানে থাকবে শুধুই পরিবার পরিজনদের বাড়িঘর। অথচ আবাসিক এলাকায় অধিকাংশ বসতবাড়ির নীচতলায় বসানো হয়েছে কত না হোটেল-রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট, ছোটখাটো উত্পাদন কারখানা। আছে মুদির দোকান, টেইলার্সের দোকান, স্টেশনারি দোকান, ওষুধের দোকান ইত্যাদি। আর অলিগলির রাস্তা দখল নিয়ে আছে নানান দ্রব্যের আর কাঁচামালের দোকানপাট। আগুন জ্বালিয়ে বানাচ্ছে চা, জিলাপি ইত্যাদি। এ সব হচ্ছে রাস্তা আর ফুটপাত দখল করেই। শুধু পণ্য বিক্রি আর আগুন জ্বালিয়ে চলছে বেচাকেনা। আবাসিক এলাকার রাস্তা দখল করে যেন এক হাটবাজার আর দোকানপাটের আসর বসিয়ে দিয়েছে দখলবাজরা। কখন যে ঘটবে অগ্নিকাণ্ড—তা কেউ জানে না। কর্তৃপক্ষ অ্যাকশনে যায় না বলেই ঢাকা মহানগরীর এই উলটো পালটা অবস্থা আজ। আসলেই আমার দেশের অধিকাংশ মানুষ আদর্শহীন, নীতিভ্রষ্ট, সুযোগসন্ধানী। যতদিন আমরা এভাবে চলব, ততদিন নানা ধরনের দুর্ঘটনা কেউ ঠেকাতে পারবে না।
ঢাকা
