রাসেলের মঞ্চে নেওয়াজের ব্যাটিং ঝড়

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ২২:০৫

স্পোর্টস রিপোর্টার

টুর্নামেন্ট জুড়েই আলোচনায় ছিল দর্শক খরা। বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ফাইনাল অবশ্য ভিন্ন চিত্রই দেখাল। দর্শকে ঠাসা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। গতকাল ম্যাচ শুরুর ঘণ্টা তিনেক আগে থেকেই স্টেডিয়ামের চারপাশ যেন জনসমুদ্রে রূপ নেয়। টসের আগেই দর্শকদের উপস্থিতিতে টইটুম্বর হয়ে উঠে স্টেডিয়ামের গ্যালারি। ক্রিকেটপিয়াসীদের হর্ষধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় স্টেডিয়াম।

দর্শককুলকে হতাশ করেনি ফাইনালে টসে হেরে আগে ব্যাট রাজশাহী। শুরুতে ইরফান শুক্কুর, শেষ দিকে অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল ও মোহাম্মদ নেওয়াজের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েছে রাজশাহী। ৪ উইকেটে ১৭০ রানের পুঁজি গড়ে দলটি। ফাইনালের চাপের মঞ্চে দারুণ ব্যাটিং করেছেন শুক্কুর। এই তরুণের হাফ সেঞ্চুরিই শুরুতে লিটন দাস-আফিফ হোসেনদের ব্যর্থতার ধাক্কাটা বড়ো হতে দেয়নি। তবে মিডল অর্ডারে হতাশ করেছেন অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক। ১৩ বল খেললেও প্রত্যাশার দাবি মেটাতে পারেনি তার ব্যাট।

রাজশাহীর স্কোরটা আরো বড়ো হতে পারত। এই রানে রাজশাহীকে আটকে রাখার কৃতিত্ব খুলনার বোলারদের। দলটির চার পেসার মোহাম্মদ আমির, ফ্রাইলিঙ্ক, শফিউল ইসলাম, শহীদুল ইসলাম ভালো বোলিং করেছেন। গোটা টুর্নামেন্টের মতো ফাইনালেও তাদের সার্ভিসটা পেয়েছে খুলনা।

ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আমিরের শর্ট বলের শিকার হন আফিফ (১০)। ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে দারুণ ক্যাচ নেন মিরাজ। খুলনার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে রান তুলতে হাঁসফাঁস করেছেন লিটন-ইরফান শুক্কুররা। দ্বিতীয় উইকেটে তারা ৪০ বলে ৪৯ রানের জুটি গড়েন। ১০তম ওভারে শহীদুলের বলে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন লিটন। ২৮ বলে ২৫ রান করেন তিনি। উইকেটে এসে সুবিধা করতে পারেননি শোয়েব মালিকও। ফ্রাইলিঙ্কের শিকার হওয়ার আগে ৯ রান করেন তিনি।

তবে একপ্রান্ত আগলে রাজশাহীর রানের চাকা সচল রেখেছেন ইরফান শুক্কুর। সাবলীল ব্যাটিং করেছেন এই বাঁহাতি। ৩০ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। দ্বিতীয় স্পেলে এসে আমির তুলে নেন শুক্কুরের উইকেট। ফাইন লেগে ক্যাচ নেন শফিউল। শুক্কুর ৫২ রান (৬ চার, ২ ছয়) করেন। ১৬ ওভার শেষে রাজশাহীর স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১০৭ রান। শেষ চার ওভারে ৬৩ রান তোলে দলটি। তাতেই লড়াইয়ের পুঁজিটা পায় তারা।

আন্দ্রে রাসেল ও মোহাম্মদ নেওয়াজের ঝড়ো ব্যাটিংই ছিল যার মূল রসদ। অবশ্য ব্যক্তিগত ৭ রানে জীবন পান রাসেল। শহীদুলের বলে এক্সট্রা কাভারে ক্যাচ ফেলেন শান্ত। ১৮তম ওভারে ঝড় তোলেন নেওয়াজ। ফ্রাইলিঙ্ককে দুটি ছক্কা ও দুটি চার মেরে ২১ রান তোলেন পাকিস্তানি এই বাঁহাতি। আমিরের করা ১৯তম ওভারে বিশাল ছক্কা হাঁকান রাসেল। তৃতীয় বলে মারা ছক্কাটি তীব্র গতিতে ১১৫ মিটার দূরত্ব পাড়ি দিয়েছিল। পরে নেওয়াজ দুটি চার মারলে ১৮ রান আসে।

শফিউলের করা ইনিংসের শেষ ওভারে আসে ১৫ রান। রাসেল একটি ছক্কা ও নেওয়াজ একটি চার মারেন। নেওয়াজ ২০ বলে অপরাজিত ৪১ রানের ইনিংস খেলেন। যেখানে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছক্কা। ১৬ বলে তিনটি ছক্কায় অপরাজিত ২৭ রান করেন রাসেল। খুলনার আমির দুটি, ফ্রাইলিঙ্ক-শহীদুল একটি করে উইকেট নেন।