ইরানের সেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ‘আহত’ হন ১১ মার্কিন সেনা

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ০০:৪৪

g রয়টার্স

ইরানের কুদস বাহিনীর কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি হত্যার বদলায় তেহরান ইরাকের সামরিক ঘাঁটিতে যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল, তাতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ১১ মার্কিন সৈন্যকে চিকিত্সাসেবা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী।  বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ তথ্য দিয়েছে।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন বিল আরবান বলেছেন, ‘আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটিতে ইরানের ৮ জানুয়ারি হামলায় কোনো মার্কিন সেনা নিহত না হলেও ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের ফলে কয়েকজনের মধ্যে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাদের চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে এবং এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে রাখা হয়েছে।’

বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়ে কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার কয়েকদিন পর পশ্চিম ইরাকে ও উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দি অঞ্চলে মার্কিন সেনাবাহিনীর দুটি সামরিক ঘাঁটিতে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেউ হতাহত হয়নি বলে তখন পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরেরও দাবিও ছিল তাই। কিন্তু জেনারেল সোলেইমানি হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধের ওই হামলায় ১১ মার্কিন সেনা আহত হন বলে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ওই হামলার পর কিছু সৈন্যর শারীরিক-মানসিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে তাদের জার্মানি ও কুয়েতের বিভিন্ন স্থাপনায় নিয়ে যাওয়া হয় বলেও জানানো হলো। বিল আরবান বলেছেন, ‘যখনই দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন, তখনই তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।’

ইরানের ক্ষমতাধর জেনারেল সোলেইমানি বাগদাদ বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন। তার ‘প্রতিশোধে’ ইরাকে দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। পশ্চিম ইরাকের দুর্গম আনবার মরুভূমিতে অবস্থিত আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কমপক্ষে ১ হাজার ৫০০ সেনা রয়েছে। ইরানের হামলায় ঘাঁটিটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। তেহরান তখন ৮০ মার্কিন সেনাকে হত্যার দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখান করে। অবশেষে ১১ জন আহতের কথা জানা গেল।