পূর্ণতার ছবিতে মানুষের গল্প

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ২২:১৪

শিল্পকলা একাডেমিতে প্রদর্শনী

ইত্তেফাক রিপোর্ট

মানুষ তা পৃথিবীর যে প্রান্তেরই হোক না কেন তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। পোশাকে কিংবা সংস্কৃতির পার্থক্য থাকলেও মানুষের হাসি-কান্না দুঃখ দেশে দেশে এক অভিন্ন। মানুষের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করে সামাজিক বাধা, অর্থনৈতিক বৈষম্য আর রাজনীতি। মানুষের সাদৃশ্য এবং বৈপরীত্যের ছবি উঠে এসেছে নুজহাত পূর্ণতার ক্যামেরায়।

প্যারিসের পথে যে মানুষের ছবি পূর্ণতা তুলেছে তার সঙ্গে মিল রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের শিক্ষার্থীর। কিন্তু সেই মানুষদের সঙ্গে মিল নেই কক্সবাজারের বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে তোলা শিশুদের ছবি। এই মানুষদের চোখে শুধুই বেদনার আখ্যান।

তরুণ আলোকচিত্রী নুজহাত পূর্ণতা। এ রকম অর্ধশতাধিক আলোকচিত্র নিয়ে তিনি সাজিয়েছেন নিজের প্রথম আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘ইন বিটুইন বর্ডারস অ্যান্ড আদার পলিটিক্যাল কন্ট্রাকস্্’। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ছয় নম্বর গ্যালারিতে শুরু হয়েছে দুদিনের এ আলোকচিত্র প্রদর্শনী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক এবং কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। আরো উপস্থিত ছিলেন আলোকচিত্রী নুজহাত পূর্ণতার বাবা বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম এবং মা জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন।

প্রদর্শনী উদ্বোধন করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, নুজহাত পূর্ণতার প্রদর্শনী দেখে আমি অভিভূত ও আনন্দিত। প্রদর্শনীর আলোকচিত্রগুলো আমার হূদয় স্পর্শ করেছে। ছবিগুলো অনবদ্য। সে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ছবি তুলেছে কিন্তু সে বাংলাদেশকে ভুলে নাই। সে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়েছে। সেখানকার মানুষের পোর্ট্রেট ছবি তুলেছে। যাতে ও নিজের সংবেদনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ওকে আমি দীর্ঘদিন ধরে চিনি। সে নানা কাজের ফাঁকে ফাঁকে এত বড়ো একটা কাজ করেছে। যাতে ওর শিল্পপ্রেমী দৃষ্টিভঙ্গি আরো ভালো লেগেছে। ভবিষ্যতে সে আরো অনেক কাজ করবে। যাতে দেশের মুখ উজ্জ্বল হবে। রুবানা হক বলেন, পূর্ণতাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। এ প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে ও পূর্ণ হয়েছে। ছোটো-বড়ো অনেকগুলো ছবি রয়েছে। বড়ো ছবিগুলো আমার খুবই ভালো লেগেছে। ছবিগুলো অনবদ্য। নুজহাত পূর্ণতা জানান, সীমান্ত রেখা মানুষের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করে। এটা মানুষের সৃষ্টি। কিন্তু দুপারের মানুষই দিন শেষে ভালোবাসা দিতে ও নিতে চায়। সেই মানুষের কথাই আমি ছবিতে তুলে ধরতে চেয়েছি।

প্রদর্শনীর উদ্বোধনের আগেই অতিথিরা আলোকচিত্রগুলো ঘুরে ফিরে দেখেন। আলোকচিত্র নুজহাত পূর্ণতা দুই ভাগে করেছেন। ‘নেমলেস ফেসেস অ্যাট বালুখালী ক্যাম্প’ শিরোনামের বিভাগটি নুজহাত সাজিয়েছেন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত মানুষের ছবি দিয়ে। ‘ফ্রম অ্যারাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড’ বিভাগে যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল, ফ্রান্স, মেক্সিকো ও বাহামা দ্বীপপুঞ্জের মানুষের যাপিত জীবনকে ধারণ করেছেন নুজহাত পূর্ণতা।

‘নেমলেস ফেসেস অ্যাট বালুখালী ক্যাম্প’ বিভাগের প্রতিটি ছবিই হূদয়কে আর্দ্র করে তুলবে। বাঁশ ধরে নির্বাক শিশুর তাকিয়ে থাকা যেমন মন খারাপ করে দেবে, অন্যদিকে বাচ্চা মেয়ের হাসি মাখা মুখ মন ভালো করে দিতে বাধ্য। ‘ফ্রম অ্যারাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড’ বিভাগের ছবিগুলোও দারুণ। কুকুর কোলে নিয়ে তরুণীর হাসি, বন্ধুদের আড্ডা, বসন্তের পড়ন্ত বিকালের ঝরাপাতা, গাছের তলায় বসে বই পড়া— সবকিছুই দর্শককে নিয়ে যাবে ছবি তোলার স্থানে। আজ প্রদর্শনীর শেষ দিন। সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত।