আনিসুজ্জামান, রাজশাহী
রাজশাহীতে বালু উত্তোলনের জন্য পদ্মা নদী ভরাট করে অবৈধ রাস্তা নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন ভোরে এবং সন্ধ্যায় প্রভাবশালীদের নির্দেশে শ্রমিকরা বালুবাহী ট্রলারযোগে ভাঙড়ি ইট, রাবিস দিয়ে নগরীর তালাইমারী সংলগ্ন পদ্মা নদী ভরাট করে অবৈধ রাস্তা নির্মাণ করছেন। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নীরব দর্শকের ভূমিকায় জনমনে এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশে রাজশাহী জেলা প্রশাসন নগরীর তালাইমারী ঘাট দিয়ে ইতিপূর্বে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অন্যদিকে নদীতে অবৈধ স্থাপনা তথা বাঁধ নির্মাণেও আদালতের পৃথক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শুধু তাই নয়, নদী অবৈধ দখলমুক্ত করতে দেশ জুড়ে সরকারি অভিযান চলছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে রাজশাহীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং পদ্মা নদী ভরাট করে অবৈধভাবে রাস্তা নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গত বছরের ২৪ জুলাই জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারী বালুর ঘাটটি বন্ধ করে দেয়। জব্দ করা হয় বালু উত্তোলনে ব্যবহূত ভেকু ও আনলোড মেশিনের ব্যাটারি। ঐ দিন ট্রাকচালকসহ আট জনকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক ছয় জনকে এক মাসের এবং দুই জনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়। এছাড়া ঐ দিনই জেলা প্রশাসন তালাইমারী ঘাটে নিষেধাজ্ঞা সংবলিত সাইনবোর্ডও ঝুঁলিয়ে দেয়। সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, ‘মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নম্বর ৬৫২১/২০১৯ এর আদেশ মোতাবেক মৌজা-কাজলাঘাট ব্যবহার করে সকল ধরনের বালু উত্তোলন-বালু পরিবহন নিষিদ্ধ করা হলো। এ আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে—আদেশক্রমে জেলা প্রশাসক, রাজশাহী।’ বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে তালাইমারী সংলগ্ন পদ্মার তীরে গিয়ে দেখা যায়, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও জেলা প্রশাসকের বিজ্ঞপ্তি অমান্য করে চলছে বালু উত্তোলন ও পরিবহন। পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা বলেন, মাদক কারবারি, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, দখলবাজের বিরুদ্ধে যখন সরকার শক্ত অবস্থানে, তখন রাজশাহীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মা নদী ভরাট করে অবৈধ রাস্তা নির্মাণ এবং বালু উত্তোলন নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তারা আরো বলেন, ইতিপূর্বে তারা সামাজিক সংগঠনগুলোকে নিয়ে পদ্মা নদী ভরাট করে অবৈধ রাস্তা নির্মাণের প্রতিবাদে সোচ্চার হন। কিন্তু তারপরও পদ্মার বুকে রাস্তা নির্মাণ বন্ধ হয়নি।
এ ব্যাপারে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।
