ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) প্রোগামিং দিয়ে কাউকে হেল্প (সাহায্য) করা সম্ভব না মন্তব্য করে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘বুথ দখল করে জাল ভোট দেওয়া সম্ভব।’ ভোটার এসে আঙুলের ছাপ দিয়ে ব্যালট পেপার পেল; ইস্যু হলো। কিন্তু আরেকজন দৌড় দিয়ে ঢুকে তার ভোটটা দিয়ে দিল।’ এরকম যদি হয় তাহলে কিন্তু জাল ভোট দেওয়া সম্ভব।’ শুক্রবার বিকালে রাজধানীর আজিমপুর গভ. গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের (প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার) প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, ইভিএমের কন্ট্রোল এবং ব্যালট নামে দুটি ইউনিট আছে। কন্ট্রোল ইউনিটে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, এনআইডি বা স্মার্টকার্ডের মাধ্যমে কেন্দ্রের দায়িত্বরত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার একজন ভোটারকে ভোটদানের জন্য চূড়ান্ত করেন। এরপর ব্যালট ইউনিটে পছন্দের প্রতীকের বাটন চেপে কনফার্ম করলেই ভোটদান সম্পন্ন হয়। দেখা গেছে, ব্যালট ইউনিটে ফিঙ্গারপ্রিন্ট না থাকার কারণে অন্য কেউ বা সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিজেই আরেকজনের ভোট দিতে পারেন।
উপস্থিত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ‘রাজা’ হিসেবে উল্লেখ করে ইসি রফিকুল বলেন, একদিনের জন্য আপনি হচ্ছেন সেই কেন্দ্রের রাজা। আপনি যখন রাজা হয়েছেন তখন আপনার প্রথম দায়িত্বটা হচ্ছে আপনার রাজত্বটাকে চিহ্নিত করা। যেসব স্কুলে সীমানা প্রাচীর নেই সেখানে অন্তত একটা বাঁশ দিয়ে হলেও সীমানা প্রাচীর নির্ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের হুঁশিয়ারি দিয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রটেক্ট করতে যদি ব্যর্থ হন তাহলে আপানাকে আমি দায়ী করব।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে ভোট পড়ার হারে অনেকটা হতাশ হয়ে এই কমিশনার বলেন, যদিও জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন এরকম ঢাকা শহরে হওয়ার কথা নয়। ইভিএমের মাধ্যমে ইলেকশন হলে এই যন্ত্রটা যেসব তা কিন্তু না। ভোট চলাকালে ততটুকু ভোটার ততটুকু সাংবাদিক, ততটুকু পর্যবেক্ষক ঢুকতে দিন যাতে আপনার কার্যক্রমে ব্যাঘাত না ঘটে।
নির্বাচন কমিশন বিপদের মধ্যে আছে মন্তব্য করে এই কমিশনার বলেন, আইনানুগ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই। দক্ষিণ সিটি করপোরেশেনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাতেনের সভাপতিত্বে দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
