গ্রীনহাউস গ্যাস শনাক্ত

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ২০:৪১

ড. মো. মনসুর আলী, প্রভাষক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজ, সাভার

নাসার একটি স্যাটেলাইট পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কোথায় কি পরিমাণ CO2 জমা হয়ে আছে তার গবেষণা চালাচ্ছে এবং তথ্য সরবরাহ করছে। সূর্যের আলো যখন পৃথিবী পৃষ্ঠে আপতিত হয়ে CO2 এর মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয় তখন এ স্যাটেলাইটটি কিছু আলোকে ধারন করে। CO2 এর বৈশিষ্ট্য হলো এটি আলোর বর্ণচ্ছটাকে পরিবর্তন করতে পারে, ফলে বোঝা যায় আলোর  ভেতর কি পরিমাণ  CO2 স্যাটেলাইটে আসছে। পরে এ স্যাটেলাইটটি  CO2 তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও প্রতিফলিত আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য পরিমাপ করে ঐ অঞ্চলে কি পরিমাণ CO2 আছে তার সঠিক মানচিত্র তৈরি করে। CO2 এর আধিক্য বিশ ্বজলবায়ুর জন্য হুমকি। আমাদের ব্যবহূত হাজার হাজার টন জ্বালানী পোড়ালে উদ্ভূত সমতুল্য পরিমাণ CO2 উত্পন্ন হয় যা শুধুমাত্র উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেণ প্রক্রিয়ায় কাজে লাগে এবং বাকী অংশ বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়ায়। যাকে আমরা  Trapping of heat বলি। এটি বায় ুঅপেক্ষা ভারী হওয়ায় ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকে। ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা দিনদিন বেড়ে চলেছে । এ অবস্থাকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলে ,যার ফলে পৃথিবীর দুইমেরু অঞ্চলে বরফ গলে অনাকাঙ্খিত বন্যার সৃষ্টি করছে। CO2বেশী জমা হচ্ছে পৃথিবীর উত্তর  গোলার্ধে, কারণ সেখানে কলকারখানার ধোঁয়া ও পোড়ানো জ্বালানী থেকে CO2 বেশী উত্পন্ন হয়। তাছাড়া বসন্তকালে যখন নতুন পাতা গজায় তখন সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় গাছ CO2 গ্রহণ করে ফলে CO2 তখন কম থাকে। আবার যখন শীতকাল আসে তখন গাছ কিছু মরে যায় ফলে CO2 বেশী হয়ে যায়।  আবার CO2  ৫০% শোষণ করে নেয় পৃথিবীর সমুদ্র ও মহাসমুদ্র। তাই বলা যায়, CO2 এর পরিমাণ সব বছরে সমান হারে বাড়ে না। কোনো বছর ২৫% আবার কোনো বছর ৮৫%। কিন্তু ২০১৫ ও ২০১৬ সালে পৃথিবীতে CO2 যে হারে বেড়েছে গত ১০ হাজার বছরে তা বাড়েনি। এলনিনো এর পরিবর্তনের ফলে এটি ঘটেছিল। সামপ্রতিককালে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত কমে খরার জন্য পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের মেরুঅঞ্চলে সৃষ্ট এলনিনো দায়ী ছিল। পৃথিবীরবিভিন্ন অঞ্চলের গ্রীনহাউস গ্যাসের পরিমাণ কমানো অনেক কঠিন কাজ, তবুও  Carbon capture system(CCS) পদ্ধতিতে কিছু কমানো যেতে পারে।