হিলি স্থলবন্দর
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রী পারাপারে সেবার মান বাড়েনি। পুরোনো পদ্ধতিতে তল্লাশি করায় বাড়তি সময় লাগায় ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। তাছাড়া ইমিগ্রেশন ও কাস্টমেস যাত্রীদের জন্য প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জ নেই। এছাড়া টয়লেট ও বিশ্রামাগার নেই।
জানা গেছে, এই স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের যাত্রী পারাপার বাড়লেও বাড়ছে না যাত্রী সেবার মান। এখনো সনাতন পদ্ধতিতে চলছে লাগেজ তল্লাশি। ফলে দীর্ঘ সময় লাগার পাশাপাশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। যাত্রীদের ভ্রমণ ফি জমা দেওয়ার জন্য নেই কোনো বুথ ব্যবস্থা। এর ফলে চরম দুর্ভোগ নিয়েই যাত্রীদের এই স্থলবন্দর দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।
সম্প্রতি ভারতে চিকিত্সার জন্য যাওয়া দিনাজপুর শহরের বিশ্বনাথ রায় জানান, হিলি স্থলবন্দরে নেই কোনো স্ক্যানিং মেশিন। ফলে ভারতে যাওয়ার সময় এবং ভারত থেকে ফেরার সময় তার লাগেজের সম্পূর্ণ মালামাল বের করে তল্লাশি করা হয়। এতে দীর্ঘ সময় লাগার পাশাপাশি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হয় তাকে।
আরেক নারী যাত্রী জানান, ইমিগ্রেশন ও কাস্টম্স বিভাগের বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করতে বসে থাকতে হয় দীর্ঘ সময়। কিন্তু নেই কোনো টয়লেট সুবিধা। এতে বিশেষ করে রোগী ও বয়স্ক মানুষদের পড়তে হয় দুর্ভোগে। এছাড়াও অনেক যাত্রী জরুরি কাজে তাত্ক্ষণিকভাবে ভারতে যাওয়ার জন্য অনেকেই ব্যাংকে সময়মতো ভ্রমণ ফি জমা দিতে পারেন না। ফলে অনেকে স্থলবন্দরে ভ্রমণ ফি জমা দিতে গেলেও সেখানে নেই কোনো বুথ।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক ফেরদৌস রহমান জানান, এই বন্দর দিয়ে ব্যবসায়ী, পর্যটক ও সবচেয়ে বেশি যাতায়াত করে রোগীরা। কিন্তু যেভাবে লাগেজসহ কাপড়-চোপড় খুলে তল্লাশি করা হয়, তা লজ্জাজনক ও বিব্রতকর। এসব সমস্যা দূর করতে তিনি আধুনিক স্ক্যানার মেশিন, যাত্রীদের বসার স্থান, টয়লেট সুবিধা ও ভ্রমণ ফি জমা দেওয়ার জন্য বুথ স্থাপনের দাবি জানান।
হিলি কাস্টম্স এর রাজস্ব কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক দুই দেশের যাত্রী পারাপারে এসব সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান, এসব সমস্যা দূর করা হলে দুই দেশের যাত্রী পারাপার বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ও অনেকাংশে বাড়বে।
রাজস্ব কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক আরো জানান, চলতি অর্থবছরের গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে ১ লাখ ২ হাজার ৭০৫ জন দেশি-বিদেশি নাগরিক পাসপোর্টে এই হিলি চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াত করেছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৪১ জন যাত্রী গেছেন কর মুক্ত। বহির্গমনে দেশি-বিদেশি যাত্রীদের কাছ থেকে হিলি কাস্টমস ভ্রমণ কর বাবদ থেকে রাজস্ব আয় করেছে ২ কোটি ৬০ লাখ ৪১ হাজার টাকা। এদিকে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানিসহ সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮৮ কোটি টাকা।
