বিভিন্ন স্থানে কমে গেছে পানি বেকার হচ্ছেন নৌশ্রমিক-জেলেরা

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৪৮

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদী

মাহমুদুল কবীর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থানে পানি কমে গিয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও চর পড়েছে। বন্যার উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পলি জমে শীর্ণ হয়ে গেছে। ফলে জেলার যমুনা চর এলাকার হাজার হাজার নৌশ্রমিক ও জেলেরা বেকার হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালি, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদী এখন কোনো কোনো জায়গায় মরা খালে পরিণত হয়েছে। এর বুক জুড়ে জেগে উঠেছে হাজার হাজার একর আবাদি জমি। জমির মালিকরা জেগে ওঠা চরে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করছেন। নদীতে পানি না থাকায় নৌশ্রমিক এবং জেলেরা তাদের উপকরণ নৌকা এবং জাল বিক্রি করে দিয়ে ভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই পেশায় নিয়োজিত হাজারও শ্রমিকের রোজগার বন্ধ হওয়ায় দাদন ব্যবসায়ী এবং এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বাড়িতে খোরাকি দিয়ে শহরে পাড়ি জমাচ্ছেন রোজগারের জন্য। শহরে এসে অনেকে রিকশা, ভ্যান, টেম্পু, সিএনজি, বাস-ট্রাকে হেলপার, গার্মেন্টস শ্রমিক, রাজমিস্ত্রির কাজে জড়িয়ে পড়েছেন। জেলার কাজিপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়ার পরিমল, শুভগাছার বিমল ও বিকাশ কুমার, সিরাজগঞ্জ সদরের বেলুটিয়া, পাইকপাড়া ও ঘোনাপাড়া চরের কুদ্দুস, ওয়াহাব, সেতাব আলী জানান, যমুনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় চর পড়ায় এখন আর জাল ফেলে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে আমরা এ পেশা ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়েছি।

কাজিপুরের মেঘাই নৌঘাটের নৌশ্রমিক আল-আমিন, বাদশা, সাইফুল ইসলাম, আজিবার, বাবলু, বেলাল, নাটুয়ারপাড়া নৌঘাটের সেলিম, জামাল, হাসেম ও নজরুল ইসলাম জানান, শুষ্ক মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই যমুনা নদী বিভিন্ন এলাকায় শুকিয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। নৌকা বিক্রি করে দিয়ে বিভিন্ন পেশায় কাজ করে সংসার পরিচালনা করছি।

কাজিপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সিরাজী জানান, যমুনা নদীর নাব্য হ্রাস পাওয়ায় কাজীপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের কমপক্ষে ১ হাজার নৌশ্রমিক এবং জেলে আজ বেকার হয়ে পড়েছেন। এ সব নৌশ্রমিক ও জেলেরা বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে দিয়ে অতিকষ্টে জীবনযাপন করছেন। এ জন্য নদী খনন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী) জানান, যমুনা নদীকে বড়ো আকারে ড্রেজিং করার ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি।