মাদক থেকে সন্তানদের দূরে রাখুন

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ২২:১৯

রোকসানা সুইটি

টিনএজারদের মনের গতিবিধি প্রকৃতির মতো। একেক সময় একেক রকম। কখনো রোদ কখনো বৃষ্টি। কখনো বা ফাগুন হাওয়ার মতো মিষ্টি। এ বয়সে আবেগটা কাজ করে খুব বেশি। আবেগে পড়ে এ বয়সে ভুলও  করে থাকে সবচেয়ে বেশি। বয়স যখন বাড়তে থাকে তার সঙ্গে অভিজ্ঞতা বাড়ে, ইতিবাচক মূল্যায়নের ক্ষমতাও বাড়ে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো মানসিকতার বিকাশ ঘটে।           

সন্তানের জন্য সব বাবা-মায়ের মমতা অপ্রতুল। নিজের সন্তানকে ভালোবাসেন না এমন বাবা-মা পৃথিবীতে নেই। সন্তান যেমনই হোক বাবা-মায়ের কাছে তা অমূল্য সম্পদ। পৃথিবীতে এমন কোনো বাবা-মা নেই যারা সন্তানের খারাপ চায়। আমরা তাদের আদর ভালোবাসা দেওয়ার কোনো কিছুরই কমতি রাখি না। তাই আমরাই তাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে ভালো মন্দ বুঝিয়ে বলব। তাদের আলোর পথ দেখাব। আমাদের মনে রাখতে হবে ঘর হলো প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আর বাবা-মা হলো সন্তানের প্রথম শিক্ষক।

সন্তান হলো কাদামাটির মতোই, আমরা যে আকৃতিতে তাদের বড়ো করব তারা তেমনই হবে। তবে বর্তমান যুগের ছেলেমেয়েরা অনেক বেশিই এগিয়ে আছে সর্ব ক্ষেত্রে। এখন আর বাবা-মায়ের কথামতো চলতে চায় না। ডিজিটাল যুগের, ডিজিটাল মানসিকতা তাদের মধ্যে। টিনএজার ছেলেমেয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাটা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন আমরা যারা বর্তমান যুগের বাবা-মায়েরা আছি, তারা বাচ্চা মানুষ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। বর্তমান সময়ে মাদক একটি চরম আতঙ্কজনক নাম।

আর মাদক হাতের কাছে পাওয়াটা হয়ে পড়েছে সহজলভ্য। তাই এ সময়টাতে তাদের প্রতি শাসন ও ভালোবাসা দুটোরই সমন্বয়ে  তাদেরকে আয়ত্তে রাখতে হবে। এ সময়টাতে যদি আমরা তাদের ভালো কথাও বলে থাকি সেটাও যেন তারা সহজভাবে মেনে নিতে পারে না। তাদের ভালো মন্দ বুঝাতে গেলেও তারা তা পছন্দ করে না। এ বয়সে দুনিয়াটা রঙিন লাগে তাদের কাছে।

আর এ রঙিন জগতে তারা যদি সঠিক বন্ধু নির্বাচন করতে না পারে তখন তারা হয় পথভ্রষ্ট। মাদক এমন একটি নাম যা কিনা একজন ব্যক্তি বা একটি পরিবারের যে ক্ষতি করে তা কিন্তু না, সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস করে একটি সমাজেরও। এ বয়সের ছেলেমেয়েদের প্রতি বিশেষ নজর রাখা উচিত তারা কাদের সঙ্গে সময় কাটায়, কাদের সঙ্গে মেলামেশা করে।

যখন সে মাদকে আসক্ত হয়ে যায় তখন তার মধ্যে হিংস্রতা দেখা দেবে।  তখন তার মধ্যে মানবিক গুণাবলি থাকে না। এমন কোনো কাজ নেই যে সে তখন তা করতে পারে। খুন, ধর্ষণ, মারামারি, ছিনতাই, সবই তার দ্বারা সম্ভব। মাদকের টাকা জোগাড় করতে এমনকি মাদকাসক্ত সন্তান তার বাবা-মাকে হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করে না। এর মধ্য দিয়েই শুরুটা হয় জীবনের করুণ পরিণতির। তাই সব বাবা-মাকে সচেতন হতে হবে এই বয়সের সন্তানদের প্রতি। তা না হলে প্রত্যেক বাবা-মাকে দেখতে হবে অসুস্থ বাংলাদেশ।

সব বাবা-মায়ের জন্য একটি কথাই শুধু বলব, অন্ধভাবে আমরা তাদের যেন ভালো না বাসি। আমরা চোখ খোলা রেখে ভালোবাসব। তারা কোথায় যায় কার সঙ্গে মিশে তা আমাদের নজরে রাখতে হবে। তাদের ভালো কাজে প্রশংসা করব, ভুল করলে বুঝিয়ে বলব। তারা তো অবুঝ থাকে। বিশেষ করে যখন তারা টিনএজার থাকে। আর তাদের বন্ধু নির্বাচনের দিকে আমাদের নজর রাখতে হবে, কারণ শুরুটা হয় কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বন্ধুর মাধ্যমেই। এ বয়সে কৌতূহল থাকে তাদের সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি আকর্ষণ থাকে সবচেয়ে বেশিই। একটানে দুইটানে কিছু হবে না এমনটা তারা মনে করে থাকে। কিন্তু এ থেকেই শুরু হয় জীবনের চরম ভুল। একটা সময় আমরা দেখতাম ছেলেরাই শুধু মাদকে আসক্ত হতো কিন্তু এই ডিজিটাল যুগে এসে দেখছি ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে ব্যাপকভাবে।

শাসন আর ভালোবাসা দিয়ে তাদের খুব কাছের বন্ধু হতে হবে বাবা-মাকে। তাদের সঠিক পথের সন্ধান দেখিয়ে দিতে হবে আমাদেরই। একজন সন্তান সুস্থ পরিবেশে মানুষ হলে তা যেমন বাবা-মায়ের জন্য সম্পদ ঠিক তেমনিভাবে সমাজ তথা দেশেরও সম্পদ।               

n লেখক :সাবেক শিক্ষার্থী, নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ