স্যাপির সংবাদ সম্মেলন
ইত্তেফাক রিপোর্ট
দক্ষিণ এশিয়ার ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও অসমতা দূর করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ‘স্যাপি’র নেতারা। তারা বলেছেন, বিগত ৩০ বছর ধরে দক্ষিণ এশিয়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী ক্রমেই বাড়ছে। যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও লিঙ্গ নির্বিশেষে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালীরা এমন ধরনের অর্থনৈতিক ধ্যান-ধারণা ও ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। যেখানে বাজার ও অর্থের একচ্ছত্র আধিপত্য। বৈষম্য নিরসনে আধিপত্য প্রতিহত করতে হবে। অধিকার বঞ্চিত মানুষ যদি অধিকার না পায় তাহলে বৈষম্য তৈরি হয়। এই জায়গাটাতে রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।
গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বৈষম্যহীন দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তুলতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। সাউথ এশিয়ান অ্যালায়েন্স ফর পভার্টি ইরাডিকেশন (স্যাপি)-বাংলাদেশ চ্যাপ্টার এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
স্যাপির অন্যতম সদস্য ও বিএমএর সাবেক সভাপতি ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, অধিকার বঞ্চিত মানুষ যদি অধিকার না পায় তাহলে বৈষম্য তৈরি হয়। এই জায়গাটাতে রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের সমাজে রাজনীতিকরা আধিপত্য দেখায় কিন্তু দায়বদ্ধতা দেখায় না। বৈষম্য নানা জায়গায়, আমরা কেবল অর্থনৈতিক জায়গাটা তুলে আনছি। অধিকার না দিয়ে শুধু আধিপত্য দিয়ে রাষ্ট্র চালালে সে রাষ্ট্র বেশি দিন টিকে না। আমরা যে সমাজব্যবস্থা চাচ্ছি, সেটা আধিপত্যের নয়; অধিকারের সমাজব্যবস্থা আমরা চাইছি। কারণ বঞ্চিতসমাজ বেশি দিন টিকতে পারে না।
প্রবীণ রাজনৈতিক ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচায বলেন, একটি নতুন অর্থনৈতিক মডেলের দাবিতে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের সক্রিয়জন, সামাজিক আন্দোলন, নারীবাদী, আদিবাসীসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, যা মানুষের অর্থনৈতিক সুবিধা, শান্তি ও গণতন্ত্র পুনর্নিমাণ করবে এবং একটি অধিকতর ভালো বিশ্বব্যবস্থা তৈরি করবে। স্যাপি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, আমরা একটি মহত্ সমতাভিত্তিক বিশ্ব বিনির্মাণে একত্রে দাঁড়িয়েছি, যেখানে সব মানুষের অধিকার সম্মানিত এবং পরিপূর্ণ, সব সম্ভাবনা, সুযোগ এবং খ্যাতি সবাই ভাগ করে নেয়।
অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, মাত্র ৩০০ জন ধনীর আয় বিশ্বের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর আয়ের সমান। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ, লজ্জাকর। দেশে বিপজ্জনক মাত্রায় অসমতা বাড়ছে। জাতীয় সংসদেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। আশির দশক পর্যন্তও সংসদে আইনজীবী, শিক্ষকসহ মধ্যবিত্তদের আধিক্য ছিল। কিন্তু এখন ৬০ শতাংশ সংসদ সদস্যই ব্যবসায়ী। এই অবস্থার পরিবর্তনে জনগণের জন্য জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তানজিমউদ্দীন খান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও লিঙ্গ নির্বিশেষে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। বিগত ৩০ বছর ধরে দক্ষিণ এশিয়ায় বৈষম্য চরমভাবে বেড়েই চলেছে। কিন্তু এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালীরা এমন ধরনের অর্থনৈতিক ধ্যান-ধারণা ও ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। যেখানে বাজার ও অর্থের একচ্ছত্র আধিপত্য। বৈষম্য নিরসনে আধিপত্য প্রতিহত করতে হবে।
আরো বক্তব্য দেন, শিশু সংগঠক ও কেন্দ্রীয় খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী, ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক নূমান আহম্মেদ খান, অক্সফামের পলিসি, অ্যাডভোকেসি, ক্যাম্পেইন এবং কমিউনিকেশন ম্যানেজার মঞ্জুর রশিদ প্রমুখ। সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইনসিডিন বাংলাদেশের পরিচালক মুশতাক আলী।
