এনামুল হক, খুলনা অফিস
খুলনায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জমিতে আধুনিক পাটগুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান আমলে তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের নামে দিঘলিয়া উপজেলা সদরের দক্ষিণপাড়ায় চার বিঘা জমি কিনেছিলেন। সেই জমিতে এখন নির্মাণ করা হচ্ছে আধুনিক পাটগুদাম। যা স্থানীয়ভাবে শেখ হাসিনার নামে পরিচিতি লাভ করেছে।
ঐ সম্পত্তি কেনার জন্য সে সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উদ্বুদ্ধ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছিলেন খুলনার আওয়ামী লীগ নেত্রী ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের পিতা প্রয়াত মোসলিম উদ্দিন বাওয়ালী। ভৈরব নদসংলগ্ন দিঘলিয়া গ্রামের ঐ জমিতে এখন পাটের গুদাম রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা খুলনায় এলে তার চাচা মরহুম শেখ আবু নাসেরের বাসায় উঠতেন। চাচির সঙ্গে সময় কাটাতেন। কিন্তু দিঘলিয়ায় পাটের গুদামসহ যে চার বিঘা জমি আছে তা জানা ছিল না শেখ হাসিনার। ২০০৭ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনে সম্পত্তির হিসাবের বিবরণ দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের বলতে গিয়ে শেখ হাসিনার আইনজীবী এই তথ্য প্রকাশ করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় এই সম্পত্তিতে একটি পাটের গুদাম এবং এককক্ষ বিশিষ্ট আধাপাকা ঘর ছিল। পাটের গুদামটি বঙ্গবন্ধুর ছোটো ভাই শেখ আবু নাসের তার ব্যাবসায়িক কাজে ব্যবহার করতেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর উত্তরাধিকার সূত্রে শেখ হাসিনা ঐ সম্পত্তির মালিকানা পান। মৃত আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে শেখ আবু বকর পরিবার-পরিজনসহ ২০ বছর ধরে এখানে বসবাস করেছেন। তিনি সম্পত্তি দেখাশুনা করেছেন। গুদাম ও ঘরের বাইরে ফাঁকা জমিতে কিছু অংশে কৃষি কাজ এবং কিছু অংশে ফলদ ও বনজ বৃক্ষ রোপণ করতেন তিনি।
১৯৭৫ সালের পর গুদামটি ১০ বছর ধরে আদমজি জুট মিলের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এরপর এটি ভাড়া নিয়ে নরসিংদীর একটি পাটকলের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ২০০৭ সালের দিকে ‘জুয়েল এটারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পাটের গুদাম হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। ২০০৭ সালের দিকে তত্কালীন দায়িত্বে থাকা আবু বকর এই জমিতে থাকা গাছে উত্পাদিত নারকেল, পাকা কলা, সবজিসহ অন্যান্য ফল শেখ হাসিনার কাছে পাঠিয়েছিলেন।
