শরীয়তপুর-চাঁদপুর রুটে প্রায় রাতে বন্ধ থাকছে ফেরি

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ২১:২৫

ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) সংবাদদাতা

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরিঘাট দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষ বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ঘন কুয়াশায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকা, সড়কের বেহাল অবস্থা, নদীতে নাব্য সংকট, বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদাবাজি, স্পেশাল সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, সিরিয়াল ভঙ্গ করার ঘটনায় এই রুটের চালক ও যাত্রীরা রীতিমতো ত্যাক্ত-বিরক্ত।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, মাদারীপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন যাতায়াত করে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম থেকে খুলনা বিভাগে যাতায়াতের খুব সহজ পথ এটি। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে প্রায় এক সপ্তাহ ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার কারণে প্রতিদিন সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এ রুটের যাত্রী ও চালকরা। সড়কে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে তৈরি হয়েছে পারাপারের অপেক্ষায় থাকা বাস, ট্রাক, কার্গো-পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি।

অপেক্ষায় থাকা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পরিমাণে ফগ লাইটের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য কুয়াশায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে এ ঘাটে। কোনো কোনো সময় কুয়াশার কারণে মাঝ নদীতে ফেরি আটকে সারা রাত পার করতে হয় মাঝ নদীতে। তাছাড়া ঘাটে বসার জন্য ভালো একটি ছাউনিরও ব্যবস্থা নেই। খুলনা থেকে আসা ট্রাকচালক বাবুল হোসেন, সাহআলম, সাহাদাত হোসেন বলেন, রাস্তার বেহালদশার কারণে এমনিতেই খুব ভোগান্তি পোহাতে হয়। তার মধ্যে আবার সুযোগ পেলেই নারায়ণপুরসহ বিভিন্ন নির্জন পয়েন্টে একটি চক্র গাড়ি থামিয়ে চাঁদাবাজি করে।

শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশিক বলেন, আমাদের ইব্রাহিমপুর ফেরিঘাট থেকে মনোহর বাজার পর্যন্ত সড়কটির কাজ চলমান রয়েছে এবং ফেব্রুয়ারি থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হবে।

ফেরিঘাটের অনিয়মের বিষয়ে ইব্রাহিমপুর ফেরিঘাটের দায়িত্বরত বিআইডাব্লিউটিসির সহকারী ম্যানেজার আব্দুল মোমেন বলেন, মূলত ঘন কুয়াশা ও ডুবচরের কারণে রাতে অনেক সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। যথাযথ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অবহিত। শিগিগরই ফগ লাইটের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের নিয়ম অনুযায়ী গাড়ি থেকে ভাড়া আদায় করছি।

এ বিষয়ে ঘাট ইজারাদার জিতু মিয়া ব্যাপারী বলেন, এ ঘাটে কাঁচামাল ও পচনশীল গাড়ি আগে ছেড়ে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে এবং সিরিয়াল ঠিক রাখার জন্য এখানে বিআইডাব্লিউটিসির লোকজন রয়েছে। সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, ঘন কুয়াশা ও নাব্য সংকটের কারণে এ ঘাটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। স্পেশাল সার্ভিসের নামে সিরিয়াল ভঙ্গ করে গাড়ি পারাপারের বিষয়টি আমরা কঠোরভাবে দমন করেছি।